
মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) রাশিয়ার চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স ভ্লাদিমির লাদানভকে তলব করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি গোল্ডেন লিও-তে হামলায় চারজন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় ভারত 'গভীর উদ্বেগ এবং দ্ব্যর্থহীন নিন্দা' জানিয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রুশ কূটনীতিককে মন্ত্রকে ডেকে পাঠানো হয়। তাঁকে জানানো হয়েছে যে বাণিজ্যিক জাহাজে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আজ, রাশিয়ার চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স, মিঃ ভ্লাদিমির লাদানভকে বিদেশ মন্ত্রকে তলব করা হয়েছিল। ১৯ জুলাই ২০২৬-এ বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি গোল্ডেন লিও-তে হামলার তীব্র নিন্দা করেছে মন্ত্রক। এই হামলায় চারজন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন। এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে দেয়।"
বিদেশ মন্ত্রক রুশ চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্সকে অনুরোধ করেছে, তিনি যেন ভারতের এই উদ্বেগের কথা মস্কোকে জানান। মন্ত্রক স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং নিরীহ সাধারণ মানুষের মৃত্যু কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "রুশ চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্সকে অনুরোধ করা হয়েছে তিনি যেন ভারতের এই তীব্র উদ্বেগের কথা তাঁর কর্তৃপক্ষকে জানান। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং তার ফলে নিরীহ সাধারণ মানুষের মৃত্যু অগ্রহণযোগ্য এবং এটি অবশ্যই এড়ানো উচিত।"
রবিবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে রওনা দেওয়ার সময় এমভি গোল্ডেন লিও জাহাজে হামলায় চারজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। এই ঘটনায় আরও একজন ভারতীয় ক্রু সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ঘটনার সময় জাহাজে ১৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন, যার মধ্যে পাঁচজন ভারতীয়। মন্ত্রক আগের একটি বিবৃতিতে জানিয়েছিল, "১৯ জুলাই ২০২৬-এর সন্ধ্যায়, ওডেসা বন্দর ছাড়ার সময় এমভি গোল্ডেন লিও জাহাজটি আক্রান্ত হয়। সেই সময় জাহাজে পাঁচজন ভারতীয় সহ মোট ১৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চারজন ভারতীয় নাগরিক দুর্ভাগ্যবশত প্রাণ হারিয়েছেন এবং একজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।"
বিদেশ মন্ত্রক নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সবরকম সাহায্য করছে। মন্ত্রক এই হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, সাধারণ ক্রু সদস্যদের জীবন বিপন্ন করা বা নৌচলাচলের স্বাধীনতা ও বাণিজ্যে বাধা দেওয়া নিন্দনীয় এবং এড়ানো উচিত।
ইউক্রেনের নৌবাহিনী অভিযোগ করেছে যে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়া চালিয়েছে। গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী এই অসামরিক জাহাজটি শস্য নিয়ে যাচ্ছিল। ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর মতে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে তিনটি Kh-59/Kh-69 ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
ইউক্রেনীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাহাজের সুপারস্ট্রাকচারের ডানদিকে আঘাত করে, যার ফলে আগুন ধরে যায়। তারা আরও জানায়, নৌবাহিনীর ইউনিট এবং মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
বিদেশ মন্ত্রক আবারও জোর দিয়ে বলেছে যে, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে অসামরিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা আবশ্যক।