
NEET-UG প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহে এবার মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। এনডিএ (NDA)-র সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি প্রশ্নফাঁসকে 'ঘোর পাপ' বলে উল্লেখ করেন এবং স্পষ্ট জানান, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য কেন্দ্র কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির পক্ষে সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পরই কেন্দ্র এবং বিভিন্ন রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাগুলি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তদন্তে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে।
রিজিজুর দাবি, দেশের লক্ষ লক্ষ চিকিৎসক-হতে-চাওয়া পড়ুয়ার স্বার্থে কেন্দ্র দ্রুত পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে পুনরায় পরীক্ষা সম্পন্ন হয় এবং ফলও প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে গোটা ঘটনাকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টেও একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, গোটা ঘটনার সিবিআই তদন্ত হোক এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র ভূমিকা খতিয়ে দেখা হোক। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে NTA-র কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, পরীক্ষার আগে একটি তথাকথিত 'গেস পেপার' বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে দেখা যায়, সেই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আসল পরীক্ষার বহু প্রশ্নের মিল রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হাতে লেখা প্রশ্নপত্রের একাধিক কপি উদ্ধার হয়েছে এবং এর সূত্র মিলেছে রাজস্থান ও উত্তরাখণ্ডের কয়েকটি চক্রের সঙ্গে। রাজস্থান পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, পরীক্ষার আগে ৪০০-রও বেশি প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল, যার মধ্যে অন্তত ১৩৫টি প্রশ্ন সরকারি প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যায়। এরপরই NTA বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেয়। তদন্তের জেরে একাধিক রাজ্যে গ্রেফতারিও হয়েছে।
অন্যদিকে পুনরায় পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরও নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র ও উত্তরপ্রদেশের কিছু পরীক্ষার্থী নম্বরপত্র এবং OMR শিটে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন। যদিও সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে NTA। সংস্থার দাবি, তাদের মূল্যায়ন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং OMR শিট বদল বা নম্বরে কারচুপির অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ও AI-নির্মিত OMR শিট ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে বলেও সতর্ক করেছে NTA।