
পাটনার গান্ধী ঘাটে গঙ্গার জলস্তর ভয়ঙ্করভাবে বেড়ে গিয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড (Highest Flood Level - HFL) ভেঙে দিয়েছে। এর পরেই বিহার সরকার রাজ্যের নিচু দিকের পাঁচটি জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী এক থেকে তিন দিনের মধ্যে এই বিপুল জলরাশি গঙ্গা অববাহিকার দিকে এগোবে।
বন্যার আশঙ্কায় কাঁপছে বিহার
বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর (CMO) থেকে জানানো হয়েছে, জলের চাপ আগামী কয়েকদিনে ভাটির দিকে সরে যাবে। এর ফলে হাথিদা এবং তার পরবর্তী গেজ স্টেশনগুলিতেও জলস্তর আগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাপিয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সমস্ত আধিকারিক ও ফিল্ড কর্মীদের চূড়ান্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অনবরত বাড়তে থাকা জলস্তরের উপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নদীর জলস্তর, বাঁধ, ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা এবং নিচু এলাকাগুলিতে নিয়মিত নজরদারি চালানোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। প্রয়োজনে আগে থেকেই যাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। সমস্ত ইঞ্জিনিয়ারকে বন্যা মোকাবিলার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি পুরোপুরি তৈরি রাখতে বলা হয়েছে।
বন্যাপ্রবণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে নদীর কাছাকাছি যেতে বারণ করা হয়েছে। তাঁদের সতর্ক ও নিরাপদ থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে নৌকা চলাচলের উপর কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা হয়। বন্যার পরিস্থিতি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে ক্রমাগত জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পাটনায় গঙ্গার জলস্তর বেড়েই চলেছে, যার ফলে নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলিতে বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রশাসন উদ্ধারকার্য ও ত্রাণের প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক দলগুলি ক্রমাগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি চিহ্নিত করছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সাহায্য পৌঁছানো যায়। নদীর জল বাড়ায় দিয়ারা এবং অন্যান্য নিচু অঞ্চলের মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। অনেকেই তাঁদের ঘরবাড়ি এবং জিনিসপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।
কেন্দ্রীয় জল কমিশনের (CWC) ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার তথ্য অনুযায়ী, বারাণসীর রাজঘাটে গঙ্গার জলস্তর ছিল ৬৯.৮০ মিটার। সেখানে সতর্কতামূলক স্তর হল ৭০.২৬২ মিটার এবং বিপদসীমা হল ৭১.২৬২ মিটার। ওই জায়গায় সর্বকালের সর্বোচ্চ জলস্তর ছিল ৭৩.৯০১ মিটার। তবে বারাণসীতে জলস্তর ঘণ্টায় ১ সেমি হারে কমছিল।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী নিজে পুরো পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন। তিনি আকাশপথে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য নিয়ে আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে গুজব এড়িয়ে চলতে এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ করেছে। প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল সতর্ক রয়েছে এবং প্রস্তুতি জারি আছে।