
Prostitution Racket Busted: গাজিয়াবাদে (Ghaziabad) দেহব্যবসার পর্দাফাঁস। বড়সড় অভিযানে গাজিয়াবাদের কৌশাম্বি থানার এক নামকরা হোটেলে চলা একটি সংঘবদ্ধ দেহব্যবসা চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। ইন্দিরাপুরম ও কৌশাম্বি থানার যৌথ অভিযানে এই চক্র ভাঙা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্ভরযোগ্য গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ এসিপি অভিষেক শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বে হোটেলে হানা দেওয়া হয়। সেখান থেকে ২১ থেকে ৩১ বছর বয়সি ১১ জন মহিলাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই চক্রে জড়িত ছিলেন, আবার কাউকে জোর করে এই কাজে নামানো হয়েছে বলে অভিযোগ। উদ্ধার হওয়া মহিলারা গুজরাত, দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার বাসিন্দা।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হলেন, রাহুল শর্মা (৪৬), হোটেলের ম্যানেজার এবং এই চক্রের মূল হোতা বলে দাবি পুলিশের। অঙ্কিত চৌহান (১৯)। সুনীল সিং (৩৯), হোটেলের কর্মী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মহিলাদের হোটেলে ডেকে এনে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হত। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে মহিলাদের ছবি ও প্রোফাইল পাঠানো হত। মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমেই দরদাম চূড়ান্ত করা হতো এবং হোটেলের বিলাসবহুল ঘরে লেনদেন চলত। প্রতি 'ভিজিট'-এর জন্য ৬ হাজার টাকা থেকে আরও বেশি অর্থ নেওয়া হতো বলে জানা গেছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও আপত্তিকর সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও চারজন পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রভাবশালী গ্রাহকদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় অনৈতিক পাচার ও সংগঠিত অপরাধ সংক্রান্ত ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মহিলাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকার নামী হোটেলগুলির নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরো চক্রটিকে ভেঙে ফেলতে বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।