
Goa: আপনি কি দিল্লি, বেঙ্গালুরু বা হায়দরাবাদের মারাত্মক ট্র্যাফিক, হইচই আর রোজকার দৌড়ঝাঁপে ক্লান্ত? তাহলে আপনার জন্য একটা দারুণ খবর আছে। এবার আপনাকে আর বন্ধ কেবিন বা ভিড়ে ঠাসা শহরে থেকে কাজ করতে হবে না। আপনি সোজা সমুদ্রের ধারে বসে, ঠান্ডা হাওয়ায় ল্যাপটপ খুলে কাজ করতে পারবেন। হ্যাঁ, গোয়া সরকার আপনার এই স্বপ্ন সত্যি করার জন্য এক দুর্দান্ত প্ল্যান নিয়ে এসেছে, যার নাম 'Work From Goa' (ওয়ার্ক ফ্রম গোয়া)।
এখনও পর্যন্ত আমরা গোয়াকে শুধু ছুটি কাটানো, বিচে সময় কাটানো আর পার্টি করার জায়গা হিসেবেই জানতাম। কিন্তু গোয়া এবার তার এই পরিচিতি বদলাতে চলেছে। গোয়ার আইটি ও পর্যটন মন্ত্রী রোহন খাউন্তের মতে, রাজ্য আর শুধু পর্যটনের উপর ভরসা করে বসে থাকবে না। খনি থেকে আয় কমে যাওয়ার পর, গোয়া সরকার এবার টেক কোম্পানি, নতুন স্টার্টআপ আর বাড়ি থেকে কাজ করা (রিমোট ওয়ার্কার্স) মানুষদের জন্য দরজা খুলে দিচ্ছে। সরকারের উদ্দেশ্য পরিষ্কার - আপনাকে এমন এক জীবনযাত্রা দেওয়া, যেখানে কাজের চাপ থাকবে না আর পরিবেশও থাকবে দূষণমুক্ত।
ইন্টারনেটের চিন্তা নেই: সরকার আগামী সিজনের মধ্যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হাই-স্পিড ইন্টারনেট ও ওয়াই-ফাই পরিষেবা দেওয়ার জন্য কাজ করছে।
কো-ওয়ার্কিং স্পেস ও হোমস্টে: থাকা এবং কাজ করার জন্য বিশেষ ধরনের হোমস্টে তৈরি করা হচ্ছে। এর জন্য সরকার Airbnb-এর মতো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, যাতে আপনার লম্বা সময় থাকতে কোনও অসুবিধা না হয়।
গ্রামের জীবন: শুধু বিচ নয়, এবার আপনি গোয়ার গ্রাম, সেখানকার সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক জায়গা আর সুস্বাদু খাবারের মজা নিতে নিতেও অফিসের কাজ সামলাতে পারবেন।
গোয়া সরকার জানিয়েছে যে তারা গোয়াকে বেঙ্গালুরু বা হায়দরাবাদের মতো কংক্রিটের জঙ্গল বানাতে চায় না, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্র্যাফিকে কেটে যায়। তারা এক 'সাস্টেনেবল মডেল' (এমন উন্নয়ন যা পরিবেশের ক্ষতি করে না) তৈরি করতে চায়, যেখানে দেশ-বিদেশের বাছাই করা প্রতিভাবান মানুষরা আসবেন, কাজ করবেন এবং দূষণহীন পরিবেশে শান্তিতে থাকবেন।
আপনি জেনে অবাক হবেন যে গোয়ায় এই মুহূর্তে প্রায় ৮০০টি সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্টার্টআপ কাজ করছে, যার মধ্যে ২৫০টিরও বেশি চালাচ্ছেন মহিলারা। শুধু তাই নয়, গোয়ায় এখন এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ হচ্ছে যা গোটা বিশ্বকে চমকে দেবে। 'সরলা এভিয়েশন'-এর মতো একটি অ্যারোস্পেস কোম্পানি গোয়ায় উড়ন্ত ইলেকট্রিক ট্যাক্সি (eVTOL) এবং ড্রোন নিয়ে গবেষণা করছে। '91Springboard' (কো-ওয়ার্কিং স্পেস)-এর প্রণয় গুপ্ত, 'Chalo' অ্যাপের মোহিত দুবে এবং 'Wakao Foods'-এর মতো বড় নামগুলো হয় গোয়ায় চলে এসেছেন অথবা সেখানে তাদের কাজ বাড়াচ্ছেন। এই জুনের শেষে গোয়া দেশের সেই কয়েকটি রাজ্যের মধ্যে চলে আসবে, যাদের নিজস্ব AI (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) পলিসি থাকবে।
অবশ্যই, গোয়াকে পুরোপুরি একটি টেক হাবে পরিণত করতে এখনও বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট এবং রাস্তার মতো পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করতে হবে। বেসরকারি সংস্থা থেকে বিনিয়োগ আনাও একটি বড় কাজ। কিন্তু সরকার এই দিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এখানকার চিত্রটা পুরোপুরি বদলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।