
ভোট কারচুপির প্রতিবাদ এবং মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিযান করবে ইন্ডিয়া জোট। দেশবাসীকেও এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। আর এই ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মধ্য দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।
নিরাপত্তার কারণে ১২ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা হবে। মান্ডি হাউসের কাছে বারখাম্বা রোডে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি র্যাফ (RAF) এবং সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানরাও পাহারায় রয়েছেন। প্যাটেল চক, জনপথ, রাজীব চক, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং বারখাম্বা রোড মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের যাতায়াত বিকেল ৪টে পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
রবিবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অন্যান্য বিরোধী দলগুলোকেও এই প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "১২ অক্টোবর ভারত ঐক্যবদ্ধভাবে সুপ্রিম কোর্টের দিকে শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাবে। গণতন্ত্র বাঁচাতে ছাত্রসমাজ, নাগরিক সংগঠন এবং বিরোধী দলগুলোকে আমাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করছি।" মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে হওয়া বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশ এবং বিজেপি কর্মীরা ছাত্র ও মহিলাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাহুল। এর প্রতিবাদেই ১২ অক্টোবর ইন্ডিয়া জোট ফের রাস্তায় নামবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। রাহুল বলেন, "দিল্লিতে দেশের তরুণরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমেছিল। তাদের মনে কোনও রাগ বা ঘৃণা ছিল না, ছিল ভালোবাসা। কিন্তু পুলিশ এবং বিজেপির গুন্ডারা তাদের বেধড়ক মারধর করেছে। এমন ভারত আমরা চাই না। দল, লিঙ্গ, জাতপাত, ধর্ম এবং রাজ্যের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা ভারতীয় হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট অভিযান করব। দেশের যুবসমাজ, সমস্ত বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং যাঁরা গণতন্ত্র ও সংবিধানে বিশ্বাস করেন, তাঁরা সবাই আমাদের সঙ্গে হাঁটবেন। আমরা গোটা দেশের হয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেব। সেখানে ভোট চুরি বন্ধ করা, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হবে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, অজিত দোভাল এবং মোহন ভাগবত ভারতের কণ্ঠস্বর রোধ করতে পারবেন না। এই কাপুরুষরা আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না। তাদের সরে দাঁড়াতেই হবে। আমরা ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং দেশপ্রেম নিয়ে একসঙ্গে হাঁটব। ডরো মত (ভয় পেও না)। গোটা ভারত সুপ্রিম কোর্ট অভিযান করবে।"
যদিও প্রধান বিচারপতি রবিবার রাতেই ইমেল করে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি সময় দিতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে আবেদন করতেও বিরোধীদের তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে 'গুন্ডাগিরি'-র অভিযোগও তোলেন রাহুল। তিনি বলেন, আরএসএস (RSS) এবং বিজেপির কর্মীদের মহিলা ও যুবকদের ওপর হামলা চালানোর জন্য পুলিশই মদত দিচ্ছে।
রাহুলের কথায়, "অমিত শাহের দিল্লি পুলিশ শুধু নিজেরাই গুন্ডাগিরি করছে না, বরং আরএসএস-বিজেপির আসল গুন্ডাদেরও মহিলা ও যুবকদের ওপর হামলা চালাতে উসকানি দিচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, সরকার যত যুবকদের দমানোর চেষ্টা করবে, তাদের রাগ তত বাড়বে। রাহুল বলেন, "আমি আগেই বলেছিলাম, 'মোগ্যাম্বো মোদী' এবং তাঁর সরকার জেন-জি (Gen Z) ও ছাত্রদের যত দমানোর চেষ্টা করবে, তাদের ক্ষোভ ততটাই তীব্র হবে।"
অমিত শাহকে নিশানা করে রাহুল আরও বলেন, "@AmitShah, আপনি চাইলে ১০ হাজার, ২০ হাজার বা ৪০ হাজার পুলিশ আনতে পারেন। যত খুশি বিজেপি-আরএসএস গুন্ডা ডাকতে পারেন। আমরা ভয় পাব না। আমরা পিছিয়ে যাব না। এই লড়াই এখন আর থামবে না!"