Delhi Protest: সোমাবারও উত্তাল হবে দিল্লি? রাহুলের সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক, অভিজিতের রাস্তায় নামার হুংশিয়ারি

Saborni Mitra   | ANI
Published : Oct 11, 2026, 10:46 PM IST
Congress Announces Supreme Court March After Delhi Police Action On Protesters

সংক্ষিপ্ত

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছিল বিরোধীরা। কিন্তু পুলিশি ধরপাকড়ের পর এবার ১২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দিল কংগ্রেস। এদিকে আটক হওয়ার পর ছাড়া পেয়েই ফের রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপক।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু রবিবার তাঁদের ওপর কড়া পুলিশি পদক্ষেপের পর এবার ১২ অক্টোবর (আগামিকাল) সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দিয়েছেন বিরোধী নেতারা। পাশাপাশি পুলিশের এই ধরপাকড়ের কড়া নিন্দাও করেছেন তাঁরা।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে, সিজেপি (CJP) কর্মী অভিজিৎ দীপককে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট বা আগাম সতর্কতা হিসেবে আটক করা হয়েছিল। ছাড়া পাওয়ার পর তিনি দাবি করেছেন, বিক্ষোভ না দেখানোর কোনো বন্ডে তিনি সই করেননি। উল্টে তিনি ফের "রাস্তায় নামার" হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, "একবার নয়, একশোবার জেলে ভরলেও পরোয়া করি না।"

বিজেপি অবশ্য এই বিক্ষোভকে বিশেষ আমল দিতে নারাজ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, "পিঠের ওপর দিয়ে আরশোলা হেঁটে গেলে যেমন লাগে, বিরোধীরাও মাঝে মাঝে সেভাবেই নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়।" এদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস, আপ, বাম দল এবং সিজেপি মিলে রাজধানীতে বিক্ষোভের নামে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি দিল্লি পুলিশের প্রশংসাও করেছেন।

এদিনও দিল্লি পুলিশকে বেশ সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়। কনট প্লেসের ইনার সার্কেলে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের আটক করে পুলিশ। সেখানে কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যেই স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI) এবং বাম দলগুলো বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর সময় কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI)-এর কর্মীদেরও আটক করে পুলিশ।

দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় এক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করার পর দীপক এবং আরও দুই সিজেপি কর্মী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপরই দীপক বলেন, "আমরা আবার রাস্তায় নামব। অমিত শাহ আর মোদীর মতো লোকেদের দেখে আমরা ভয় পাই না। একবার নয়, একশোবার আমাদের জেলে ভরুন।" নাগপুরে দাঁড়িয়ে তিনি পুলিশকে "খাকি উর্দির গুন্ডা" বলেও তোপ দাগেন।

দীপকের অভিযোগ, তাঁর ৮৫ বছর বয়সী ঠাকুমা সাবিত্রীবাই শঙ্কররাও দীপকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি এক তুতো ভাইকে ফোন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁকে ফোন করতে দেয়নি। এমনকি তাঁর আইনজীবীর সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তাঁর আরও অভিযোগ, রাত সাড়ে তিনটের সময় পুলিশ তাঁকে নিজের গ্রেপ্তারি নিয়ে বাবা-মাকে ফোন করতে বলে। এর আগে সিজেপি-র লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স হেড রত্না সিং জানিয়েছিলেন, "এক বছরের জন্য শান্তি ভঙ্গ করা যাবে না"—এই শর্তেই তাঁদের ছাড়া হয়েছে। তবে পরে তিনি জানান, প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের ক্ষেত্রে এটা একটা সাধারণ নিয়ম।

এএনআই-কে রত্না সিং বলেন, "ম্যাজিস্ট্রেটের শর্তগুলো ওই সাধারণ টেমপ্লেটের মতোই। যখনই কাউকে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনে নেওয়া হয়, তখন সবাইকে এটাতে সই করতে হয়। তাই আলাদা করে কোনো বিশেষ শর্ত চাপানো হয়নি। এটা একটা সাধারণ নিয়ম।"

এদিকে, ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) কর্মী অভিজিৎ দীপক এবং তাঁর দুই সঙ্গীকে আটক করার পেছনের কারণ খোলসা করেছেন দিল্লি পুলিশের ডিসিপি নেহা যাদব।

ডিসিপি যাদবের মতে, এর আগে এই গোষ্ঠীর ডাকা বিক্ষোভগুলোতে চরম আইনশৃঙ্খলা অবনতির ঘটনা ঘটেছিল। যার মধ্যে ছিল ব্যাপক পাথর ছোঁড়া, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি সম্পত্তির বিপুল ক্ষতি। পাশাপাশি তারা আইনি নির্দেশিকা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশও অমান্য করেছিল।

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে দিল্লির বেশ কয়েকটি এলাকায় বিএনএসএস (BNSS)-এর ১৩৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বেআইনি জমায়েত এবং বিক্ষোভ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দীপকের ঠাকুমার মৃত্যুর বিষয়ে ডিসিপি বলেন, পুলিশ আধিকারিকরা অত্যন্ত "সংবেদনশীলতার সঙ্গে" তাঁকে খবরটি দিয়েছিলেন। এমনকি ফ্লাইট এবং ফোন কলের বিষয়েও সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। "তাঁকে বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চান কি না, কিন্তু তিনি নিজেই রাজি হননি," জানান ডিসিপি।

রবিবার রাহুল গান্ধী দেশের যুবসমাজ, বিরোধী দল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের একজোট হয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দিয়েছেন। "ডরো মত" (ভয় পেও না) স্লোগান তুলে তিনি সাধারণ মানুষকে ভয় ঝেড়ে ফেলার আহ্বান জানান। গান্ধী জানান, দেশের মানুষের হয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে। সেখানে "ভোট চুরি বন্ধ করা, এসআইআর (SIR) স্থগিত করা এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি" জানানো হবে।

শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি ধরপাকড়ের কড়া সমালোচনা করে গান্ধী বলেন, তরুণরা শান্তিপূর্ণভাবেই রাস্তায় নেমেছিল। "তারা মনে ভালোবাসা নিয়ে এসেছিল, কোনো ঘৃণা বা রাগ নিয়ে নয়। কিন্তু পুলিশ এবং বিজেপির গুন্ডারা তাদের মারধর করেছে। আমরা এমন ভারত চাই না," বলেন তিনি।

অন্যান্য বিরোধী নেতারাও পুলিশের এই ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বলেন, "দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে।" তাঁর মতে, "একজনকে বাঁচাতে" গোটা দিল্লিকে ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করা হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব বলেন, প্রশাসন "হিটলারের থেকে শিক্ষা নিয়েছে।" মহিলা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন যে তরুণরা "এই আন্দোলন শুরু করেছে" তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "এবার, আমরা সবাই, একসঙ্গে লড়ব।" কংগ্রেস সাংসদ দীপেন্দর হুডা দলীয় কর্মীদের ১২ অক্টোবর বিপুল সংখ্যায় দিল্লিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

কর্ণাটকের মন্ত্রী কে. এইচ. মুনিয়াপ্পা বলেন, "গোটা দেশ জ্বলছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। বেঁচে থাকার আর কোনো উপায় নেই, তাই তারা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছে। কংগ্রেস দল এবং ইন্ডিয়া (INDIA) জোট একসঙ্গে ন্যায়ের জন্য লড়ছে। আমার মনে হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই ধর্মঘটের কোনো শেষ নেই।"

বিরোধীদের এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপিও। বিজেপি নেতা এবং আইনজীবী করুণা সাগর বলেন, ইন্ডিয়া জোট এবং সিজেপি "বিশৃঙ্খলা তৈরি করে রাজধানী দখল করার চেষ্টা করেছিল।"

এএনআই-কে তিনি বলেন, "আমি রাহুল গান্ধী এবং সিজেপি নেতাদের কাছে জানতে চাই, যাঁরা নিজেদের গণতন্ত্রের রক্ষাকর্তা বলে দাবি করেন, তাঁরা যে সংবিধান রোজ দেখান, সেটা এবার খুলে পড়ুন। সংবিধান এবং তার অনুচ্ছেদগুলো পড়া উচিত। সিইসি-কে সরানোর পদ্ধতি তাঁদের জানা উচিত। সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ৫ নম্বর উপধারা এবং ১২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর উপধারায় সিইসি-কে সরানোর নির্দিষ্ট পদ্ধতির কথা বলা আছে। এর জন্য নির্দিষ্ট কারণ এবং সংসদের দুই কক্ষের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। আর যদি রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস, সিজেপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে সিইসি-র পদত্যাগের দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ থাকে, তবে তারা সেটা সংসদে পেশ করুক, প্রমাণ করুক এবং সিইসি-কে সরানোর চেষ্টা করুক।"

কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন প্রতিমন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে রাহুল গান্ধীর অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, "রাহুল গান্ধী ভোট চুরির যে অভিযোগ তুলেছেন, তাঁর কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে: আপনি যেখান থেকে জিতেছেন, সেখানে কি আমাদের ভোট চুরি হয়েছে? আমরাও কি বলব আমাদের ভোট চুরি হয়েছে? আমরা তো বলতেই পারি কংগ্রেস নেতারা জাল ভোটে জিতেছে। এভাবে তো কাজ চলতে পারে না।"

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তোখান সাহু বলেন, "কংগ্রেস দল দেশে নৈরাজ্য ছড়াতে এবং মানুষকে উসকে দেওয়ার রাজনীতি করছে। ওদের জিজ্ঞাসা করা উচিত: এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ কবে হয়নি? নেহরুর সরকার হোক, ইন্দিরা গান্ধীর হোক বা নরসিমহা রাওয়ের—এই প্রক্রিয়া সবসময় হয়েছে; এসআইআর সবসময় হয়েছে..."

ছাড়া পাওয়ার পর এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে সিজেপি কর্মী সৌরভ দাস কড়া নিরাপত্তার সমালোচনা করেন। সৌরভ দাস বলেন, "এই মুহূর্তে গোটা দেশের পরিস্থিতি একটা অঘোষিত জরুরি অবস্থার মতো। ১৯৭৫ সালের স্বৈরতান্ত্রিক আমলের পর এমন দমনমূলক পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি।"

তিনি আরও বলেন, "গত তিন-চার দিন ধরে দিল্লিকে কার্যত একটা ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করা হয়েছে। গোটা শহরে কড়া বিধিনিষেধের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং কাশ্মীর, বাংলা ও নকশাল অধ্যুষিত এলাকা থেকে বিমানে করে আনা বাহিনীও রয়েছে। এই কড়াকড়ি শুধু বিক্ষোভকারীদের নিশানা করছে না; সাধারণ মানুষ, যাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, তাদেরও শাস্তি দিচ্ছে।"

তাঁর অভিযোগ, মানুষের ক্ষোভ যাতে আন্দোলনের বিরুদ্ধে যায়, তার জন্য ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, রাজধানী এক্সপ্রেস সহ একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং বাজারঘাট বন্ধ রাখা হয়েছে।

রাঙ্কার অভিযোগ, দীপককে যখন তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়, তখন পুলিশ ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন নিয়ে চারপাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি অভিযোগ করেছেন, শনিবার রাতে তিনি যখন ঘুমোচ্ছিলেন, তখন সাধারণ পোশাকে প্রায় ২০ জন লোক তাঁর বাড়িতে ঢুকে জোর করে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনাকে তিনি আটক বা আইনি গ্রেপ্তারি না বলে "অপহরণ" আখ্যা দিয়েছেন।

রাঠির দাবি, ওই লোকগুলো তাঁকে শোওয়ার ঘর থেকে সিঁড়ি দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নামায়, যার ফলে তিনি চোট পান। তাঁর আরও অভিযোগ, তাঁকে চটি পরারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এরপর তাঁকে একটা জিপে তুলে বিভিন্ন থানায় ঘোরানো হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই লোকগুলো তাঁর এবং তাঁর বাবা-মায়ের ফোন কেড়ে নেয়। ফলে তিনি ঘটনার কোনো ভিডিও করতে পারেননি বা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। রাঠি জানান, থানায় পৌঁছানোর পর তিনি তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে আইনজীবী বা ফোন কোনোটিই দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, তাঁকে প্রায় ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল এবং এই পুরো সময়টায় তাঁকে বারবার বলা হয় যে তাঁকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি।

রবিবার সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে, শীর্ষ আদালত চত্বরের আশেপাশে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারায় জারি করা নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। আদালত জোর দিয়ে বলেছে, ন্যায়বিচারের পথ যেন কোনোভাবেই অবরুদ্ধ না হয় এবং শান্তিপূর্ণ নাগরিকদের যেন বেআইনিভাবে আটক করা না হয়।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং ভি. মোহনার একটি বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজধানীতে বিক্ষোভের সময় দিল্লি পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর ধরপাকড় ও বিক্ষোভকারীদের আটকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ পিটিশনের শুনানির সময় এই নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি আদালত অবমাননার মামলারও শুনানি চলছিল।

শান্তিপূর্ণভাবে চলাফেরার মৌলিক অধিকারের কথা তুলে ধরে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, আইনের গণ্ডির মধ্যে থেকে জাতীয় রাজধানীতে মানুষের অবাধ যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হবে।

বেঞ্চ জানায়, "আইন অনুযায়ী শহরে মানুষের অবাধ যাতায়াতের অনুমতি দিতে হবে। বিশেষ করে বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা যেখানে জারি আছে, তার বাইরে শান্তিপূর্ণ এবং নিরস্ত্র জমায়েতকে কোনোভাবেই বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না।"

শুনানির সময় বেঞ্চ জানায়, বিক্ষোভের ধরপাকড় সংক্রান্ত মামলাগুলো নিয়ে যে আইনজীবীরা কথা বলতে চান, তাঁদের সবার কথাই শোনা হবে।

আদালত পর্যবেক্ষণ করে, "আমাদের সামনে দুটো বিষয় আছে। এমন অনেক আইনজীবী আছেন যাঁরা তালিকাভুক্ত নয় এমন পিটিশন নিয়ে কথা বলতে চান। আমরা ঠিক করেছি, (বারের) ডানদিক থেকে বাঁদিকে যাব এবং প্রত্যেক পক্ষকে তাদের কথা বলার সুযোগ দেব।"

এরই মধ্যে, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এবং অল ইন্ডিয়া বার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আদিশ সি আগরওয়ালা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে ১২ অক্টোবর বিরোধী নেতাদের প্রস্তাবিত সুপ্রিম কোর্ট সফরের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আগরওয়ালা পরামর্শ দিয়েছেন, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত নতুন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিরোধী দলগুলো সিইসি-কে সরানোর জন্য সংসদে নতুন করে প্রস্তাব আনার কথা ভাবতে পারে।

আগরওয়ালা বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রাজনৈতিক দলগুলোর আছে। কিন্তু তিনি যুক্তি দেন, একটি রাজনৈতিক বিতর্কিত বিষয় নিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিলে ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে যখন এই সংক্রান্ত মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Abhijit Dipke: কী করে অভিজিৎ দিপকেকে ঠাকুমার মৃত্যুসংবাদ দিয়েছিল পুলিশ? দেখুন সেই ভিডিও
Riyadh Airport: রিয়াধ বিমানবন্দরে হুথি হামলায় হত ১২, জখম ১১ ভারতীয়-সহ ৩০০