
NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখানোর ঠিক পরের দিনই ফের সুর চড়ালেন আরশোলা জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎতিপকে। এবার তিনি শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেই তোপ দাগেননি, তাঁদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তোলা বিজেপি নেতাদেরও পাল্টা জবাব দিয়েছেন।
রবিবার ছত্রপতি শিবাজীনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আরশোলা জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎতিপকে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজে থেকে ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে পদ থেকে না সরানো পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন চলবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেনতিপকে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচিত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে নেওয়া। আমরা প্রথম থেকেই এই দাবি করে আসছি। প্রধানমন্ত্রী যদি রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাতে পারেন, তাহলে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া আটকাতে পারছেন না কেন?”
NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডের পর দায়বদ্ধতার দাবিতে গত ৬ জুন যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই বিক্ষোভে কয়েকশো যুবক-যুবতী যোগ দেন।
আরশোলা জনতা পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, এই প্রশ্নের উত্তরেতিপকে জানান, শহর ও গ্রামের যুবসমাজকে প্রভাবিত করে এমন সব বিষয় নিয়েই তাঁদের সংগঠন কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, “শহরের হোক বা গ্রামের, যুবকদের সমস্যা নিয়ে আমরা সবরকম লড়াই চালাব। আজকের যুবসমাজের বর্তমান রাজনৈতিক দল বা সরকারের থেকে কোনও প্রত্যাশা নেই।” এই আন্দোলন ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলে পরিণত হতে পারে কিনা, এমন জল্পনার উত্তরেতিপকে বলেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনও আসেনি।
তাঁর কথায়, “আমি সম্প্রতি আমেরিকা থেকে ভারতে ফিরেছি। তাই এখনই এই বিষয়ে কথা বলা ঠিক হবে না। আমরা আমাদের সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করব, তাঁদের কথা শুনব এবং তাঁদের উদ্বেগ ও সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করব। তারপরই ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
বিজেপি নেতা এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের একাংশ অভিযোগ তুলেছিলেন যে, তিপকে আমেরিকায় বসে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তাঁর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এই সমস্ত সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি।
তিপকে বলেন, “আমি আজ আপনাদের সামনে বসে আছি। গতকাল দিল্লিতে একটি বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছি। তার মানে কি ওরা বলতে চায় যে, একজন পাকিস্তানি নাগরিককে দিল্লিতে বিক্ষোভ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে? এই দেশে আর কতজনকে আপনারা পাকিস্তানি তকমা দেবেন? শুধু বিজেপি সদস্য আর আইটি সেলের কর্মীরাই কি ভারতীয়? এভাবে চলতে পারে না। আপনারা যদি নিজেদের কাজ ঠিকভাবে করতেন, তাহলে আমাদের কথা বলার দরকারই হতো না।”
কংগ্রেস বা অন্যান্য বিরোধী দলের সমর্থন নেবেন কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে তিপকে জানান, তাঁদের আন্দোলন স্বাধীনভাবেই চলবে। তবে নীতিগত সমর্থনের দরজা খোলা রয়েছে। তিনি বলেন, “যুবকদের স্বার্থে যে কেউ আমাদের বাইরে থেকে সমর্থন করতে পারেন। আমরা যুবসমাজের জন্য কাজ করছি। আমাদের সঙ্গে কংগ্রেস বা আম আদমি পার্টির কোনও যোগ নেই। তবে, যুবকদের ইস্যুতে কেউ আমাদের সমর্থন করতে চাইলে, তা বাইরে থেকে করতে পারেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি এখন ভারতেই থাকব, আর আমেরিকায় ফিরব না।”
মরাঠা সংরক্ষণ আন্দোলনের নেতা মনোজ জারাঙ্গে পাটিলের সঙ্গে দেখা করার কোনও পরিকল্পনা আছে কিনা, এই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিপকে বলেন, “আমি আজ সকালেই বাড়ি ফিরেছি। দয়া করে আমাকে একটু সময় দিন।”