
ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা আজ বিকেল ৫টায় সংসদের সেন্ট্রাল হলে বৈঠকে বসছেন। তাঁরা আজ রাত ৮টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সময় পেয়েছেন বলে সূত্র জানাচ্ছে। দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে টানা তিনদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বৃহস্পতিবার রাজঘাটে গিয়েছিলেন।
বিরোধীরা ভোটার তালিকা সংশোধনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগ চাইছেন। নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে।
এই বিক্ষোভ শুধু দিল্লিতেই আটকে নেই। আরজেডি-র শীর্ষ নেতা তেজস্বী যাদব বিহারের পাটনায় সমান্তরাল একটি বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনিও দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের এই বিক্ষোভে যোগ দেবেন।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বুধবারের জোরদার বিক্ষোভের পর তারা তিনটি এফআইআর দায়ের করেছে এবং আরও মামলা হতে পারে। এই এফআইআরগুলোতে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, পুলিশকর্মীদের ওপর হামলা, ধাক্কাধাক্কি এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার নামও রয়েছে। রাহুল গান্ধীকে বুধবার ব্যারিকেড দেওয়া একটি গেট খোলার চেষ্টা করার সময় আটক করে বারখাম্বা রোড থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF) এই বিতর্কের মাঝেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের 'জেড প্লাস' (Z+) নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। এর জন্য অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি প্রশাসন ৯ ও ১০ অক্টোবর শহরের সমস্ত খুচরো মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। দিল্লি পুলিশ এবং 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র পরিকল্পিত বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দিল্লি পুলিশ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জবাবদিহির দাবিতে ১০ অক্টোবর ডাকা একটি বিক্ষোভের অনুমতি বাতিল করে দিয়েছে। খুব কম সময়ের নোটিশ, আগে নিয়ম না মানার রেকর্ড এবং বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। পুলিশ আরও সতর্ক করেছে যে, গোটা নয়াদিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ নম্বর ধারা জারি রয়েছে। তাই সেখানে বেআইনি জমায়েত বা বিক্ষোভ পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশ (জয়েন্ট সিপি) নূপুর প্রসাদ এএনআই-কে জানিয়েছেন, পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ১০ দিন আগে অনুমতি চাওয়ার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। নূপুর প্রসাদ বলেন, "নয়াদিল্লি জেলায় একটি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখানে জানানো হয়, সিইসি-র জবাবদিহির দাবিতে ১০ অক্টোবর তারা একটি বিক্ষোভ করতে চায়। আমরা আবেদনটি খতিয়ে দেখি। প্রথমত, খুব কম সময়ের নোটিশে এটি জমা দেওয়া হয়েছিল। আমাদের নিয়ম অনুযায়ী, ধর্না বা বিক্ষোভের অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটা করা হয়নি।"