
High Speed Bullet Train News: ৫০৮ কিমি দীর্ঘ মুম্বই-আমেদাবাদ হাই স্পিড রেল MAHSR প্রকল্পের কাজ ফুল স্পিডে চলছে। গুজরাট অংশের ৩৫০ কিমি ট্র্যাক ২০২৭ সালের মধ্যে রেডি করার টার্গেট নিয়েছে NHSRCL। আর এই প্রকল্পেই যুক্ত হচ্ছে ভারতের জন্য একেবারে নতুন প্রযুক্তি - ‘টানেল হুড’ বা Tunnel Hood।
সোজা ভাষায়, এটি টানেলের মুখে লাগানো একটা বিশাল ফাঁপা শেডের মতো স্ট্রাকচার। দেখতে অনেকটা লম্বা শুঁড়ের মতো। বুলেট ট্রেন যখন ৩২০ কিমি স্পিডে টানেলে ঢোকে, তখন সামনের বাতাসকে ধাক্কা দেয়। সেই ধাক্কায় তৈরি হয় ‘টানেল বুম’ বা ‘মাইক্রো প্রেশার ওয়েভ’।
এই প্রেশার ওয়েভ টানেলের ভেতর দিয়ে ধেয়ে গিয়ে টানেলের অন্য মুখ থেকে বিকট শব্দ করে বেরোয়। যাত্রীদের কানে ব্যথা হয়, কান বন্ধ হয়ে যায়। জাপানে একে ‘টানেল সনিক বুম’ বলে।
১. কানের চাপ ৭০% কমবে: যাত্রীরা আর কটন বা চুইংগাম ছাড়াই আরামে টানেল পার করবেন।
২. শব্দদূষণ কমবে: টানেলের মুখের কাছে থাকা গ্রামের লোকজনের ঘুম ভাঙবে না। শব্দ ৩০-৫০ ডেসিবেল কমবে।
৩. ট্রেনের এনার্জি বাঁচবে: হঠাৎ এয়ার প্রেশারের ধাক্কা কমলে ট্রেনের পাওয়ার খরচও কম হয়।
ভারতের জন্য কেন ঐতিহাসিক?
ভারতীয় রেলের ১৬০ বছরের ইতিহাসে এটাই প্রথমবার কোনো ট্রেন প্রকল্পে টানেল হুড বসছে। জাপান, চিন, ফ্রান্সে বুলেট ট্রেনের টানেলে এই টেকনোলজি বহুদিন ধরে আছে। ভারত জাপানের শিনকানসেন E5 সিরিজের ডিজাইন কপি করেই এই হুড বানাচ্ছে।
মুম্বই-আমেদাবাদ রুটে মোট ২১ কিমি টানেল আছে, যার মধ্যে ৭ কিমি সমুদ্রের নিচ দিয়ে যাবে থানে ক্রিকের তলা দিয়ে। এই আন্ডারসি টানেলের দুই মুখেই সবচেয়ে বড় টানেল হুড বসবে।
কবে চালু হবে?
NHSRCL-এর প্ল্যান: ২০২৭ সালের আগস্টের মধ্যে সুরাট-বিলিমোরা ৫০ কিমি অংশে প্রথম ট্রায়াল রান। পুরো মুম্বই-আমেদাবাদ রুট ২০২৮-এর ডিসেম্বরের মধ্যে যাত্রী পরিষেবা দিতে পারবে বলে আশা। তখন ভারতও জাপানের মতো ‘নো কান পপ’ বুলেট ট্রেনের দেশ হয়ে উঠবে।
উল্লেখ্য, বুলেট ট্রেন মানে শুধু স্পিড নয়, আরামও। ‘টানেল হুড’ প্রমাণ করে দিল ভারত এখন শুধু ট্রেন কেনে না, টেকনোলজিও শেখে। ৩২০ কিমি স্পিডে ছুটেও যাত্রী যখন কানে হাত না দিয়ে জানলা দিয়ে বাইরে তাকাবে, তখন বুঝবেন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ম্যাজিক।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।