
নয়াদিল্লি (৩০ অক্টোবর): কোভিডের দাপটে বহু দিন আটকে থাকার পর অবশেষে দেশে শুরু হচ্ছে মেগা জনগণনা। সরকারি বিজ্ঞপ্তির সূত্র ধরে পিটিআই জানিয়েছে, ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশজুড়ে পুরোদমে জনসংখ্যা গণনার কাজ চলবে।
তবে এর আগেই সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ সুযোগ থাকছে। ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে যে কেউ চাইলে অনলাইনে নিজেদের পরিবারের তথ্য নিজেই জমা করতে পারবেন। পুরো গণনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর, কোনও ভুলত্রুটি থাকলে তা শুধরে নেওয়ার সুযোগও থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে ৫ মার্চের মধ্যে এই সংশোধনের কাজ চলবে।
সরকারি নির্দেশিকায় পরিষ্কার জানানো হয়েছে, যেসব রাজ্যে সামনেই নির্বাচন রয়েছে এবং যেসব রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মারাত্মক তুষারপাত হয়, সেখানে এই নির্ধারিত সময়ে গণনা হবে না। মণিপুর, গোয়া, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব এবং উত্তরাখণ্ডে নির্বাচন থাকায় সেগুলিকে এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রবল ঠান্ডা ও বরফের কারণে লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীরেও ওই সময়ে কাজ বন্ধ থাকবে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং নির্বাচন শেষ হলে এই জায়গাগুলোতে আলাদা করে গণনার কাজ হবে।
ভারতে ১৯৪৮ সালের সেন্সাস অ্যাক্ট এবং ১৯৯০ সালের সেন্সাস রুলস অনুযায়ী জনগণনার কাজ পরিচালিত হয়। দেশে শেষবার সফলভাবে পূর্ণাঙ্গ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে, দু'টি ধাপে। এরপর 'জনগণনা ২০২১' উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, প্রথম ধাপের কাজ হবে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় ধাপ চলবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে বেশ কিছু রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতিও সেরে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময় দেশে মরণঘাতী কোভিড-১৯ মহামারী থাবা বসায়। সংক্রমণের আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে সমস্ত কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করতে হয়। অবশেষে সব জট কাটিয়ে ২০২৭ সালের শুরুতেই এই মেগা জাতীয় প্রক্রিয়া শেষ করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।