
অরুণাচল প্রদেশে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া নিয়ে বিতর্কের আবহে অবশেষে মুখ খুলল কেন্দ্রীয় সরকার। ইন্দো-তিব্বতীয় সীমান্ত পুলিশ (ITBP)-এর ডিরেক্টর জেনারেল শত্রুজিৎ সিং কাপুরের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তে অশান্তির কারণ হিসেবে চিনা সেনার টহলদারির ধরন পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দেবে বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনার অন্যতম কারণ চিনা বাহিনীর নির্ধারিত টহলদারির ধরন থেকে সরে আসা। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, অতীতেও এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে। চিনা সেনা তাদের নির্ধারিত টহলদারির পদ্ধতি বদল করলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অস্থিরতা তৈরি হয়।
একই সঙ্গে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে দু’পক্ষই কাজ করছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভুল বোঝাবুঝি ও অনভিপ্রেত পদক্ষেপ এড়ানো এবং আগে থেকে থাকা সমস্যাগুলির সমাধানের লক্ষ্যে ভারত ও চিন কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলেও জানিয়েছে মন্ত্রক। কী বলেছিলেন ITBP প্রধান? সম্প্রতি ITBP জওয়ানদের সম্মান জানাতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বাহিনীর প্রধান শত্রুজিৎ সিং কাপুর দাবি করেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অরুণাচল প্রদেশের একাধিক জায়গায় ভারতীয় সেনার সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে ওই এলাকাগুলিতে মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তা তখনও চলছিল। যদিও তিনি সরাসরি চিনা সেনার নাম উল্লেখ করেননি।
ওই অনুষ্ঠানে ITBP প্রধান আরও জানান, সংঘাতের পরিস্থিতিতে বাহিনীর শৌর্য কম্যান্ডোরা অসাধারণ দক্ষতা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। মোদীকে আক্রমণ কংগ্রেসের অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চিন সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে ITBP প্রধানের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। দলের সাংসদ জয়রাম রমেশের অভিযোগ, সীমান্তে সংঘাতের বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তথ্য গোপন করছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বরে হওয়া কোর কম্যান্ডার স্তরের বৈঠকের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ভারত-চিন সীমান্ত নিয়ে কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে আসছে। একাধিকবার এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেছেন রাহুল গান্ধীও। তবে কেন্দ্রীয় সরকার অতীতে কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ করেছে। শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের পর নতুন করে বিতর্ক সাম্প্রতিক এই বিতর্কের তাৎপর্য আরও বেড়েছে ভারত ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে দুই দেশের সেনার সংঘর্ষের পর চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফর এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ঘিরে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের আশা তৈরি হয়েছিল। সেই বৈঠকে সীমান্তে উত্তেজনা কমানো এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।
এমন পরিস্থিতিতে ITBP প্রধানের মন্তব্য সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। যদিও বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য দুই দেশই কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক কী বক্তব্য দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।