
দিল্লি: রাশিয়ার তৈরি S-400 এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেমের আরও পাঁচটি স্কোয়াড্রন কেনার পথে হাঁটছে ভারত। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের একাধিক বিমানকে সফলভাবে রুখে দেওয়া এবং ধ্বংস করায় S-400-এর পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। এই সাফল্যের পরেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পিছনে আরও একটি কারণ হল পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা লাগাতার সংঘাত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই অঞ্চলে উত্তেজনা চলছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ফিউরি’-তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। এরপর থেকেই গোটা অঞ্চলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় বায়ুসেনা ‘সুদর্শন চক্র’ নামে আরও পাঁচটি S-400 ইউনিট কেনার সুপারিশ করেছে। এই প্রস্তাব শীঘ্রই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। ভারতের পূর্ব এবং পশ্চিম সীমান্তে এই সিস্টেমগুলো মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আধিকারিকদের মতে, এর ফলে দেশের আকাশ সুরক্ষা আরও মজবুত হবে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ভারত রাশিয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, পাঁচটি স্কোয়াড্রনের মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যেই ভারতে চলে এসেছে। বাকি দুটি এই বছরের মধ্যেই সেনার হাতে চলে আসবে।
গত বছর ১০ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ও রাডার সিস্টেমকে রুখে দিতে S-400 একটি বড় ভূমিকা পালন করেছিল। পাকিস্তান থেকে ছোঁড়া ক্রুজ এবং ব্যালিস্টিক মিসাইলও সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেয় এই সিস্টেম। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ব্যবহার করা চীনের তৈরি HQ-9 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ভারতের আক্রমণ ঠেকাতে পারেনি বলে রিপোর্টে জানা গিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রেও HQ-9-এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় S-400 বিশ্বজুড়ে আরও বেশি নজর কেড়েছে।
বদলে যাওয়া যুদ্ধের কৌশলে এখন আকাশপথে আক্রমণকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দেশগুলো। তাই ভারতও আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্রের হানা মোকাবিলার জন্য নিজেদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে। বায়ুসেনা এখন S-400 ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ভান্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর কথা ভাবছে। এই বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং শীঘ্রই নতুন টেন্ডার ডাকা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) দেশীয় প্রযুক্তিতে দূরপাল্লার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরির কাজও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।