
পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত বদলাতে থাকা পরিস্থিতির মধ্যে গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অঞ্চলের আটটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এই দেশগুলি হলো সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইজরায়েল, সৌদি আরব, জর্ডন, বাহরাইন, ওমান, কুয়েত এবং কাতার।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরান এবং তার সমর্থিত গোষ্ঠীগুলি ইজরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলি এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলিতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এই উত্তেজনার আবহে মোদীর এই কূটনৈতিক তৎপরতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী মোদী কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি কাতারের উপর হামলার নিন্দা করেন এবং সে দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের যত্ন নেওয়ার জন্য আমিরকে ধন্যবাদ জানান।
মোদী এক্স (আগের টুইটার) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে লেখেন, "আমার ভাই, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে কথা হলো। আমরা কাতারের পাশে আছি এবং সে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার ওপর যেকোনো ধরনের আঘাতের তীব্র নিন্দা করছি। আমরা আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছি। এই কঠিন সময়ে কাতারে থাকা ভারতীয়দের পাশে থাকার জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।"
এদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী মোদী উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন।
দুটি আলোচনাতেই প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ দেশে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সুরক্ষা ও কল্যাণের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
মোদী এক্স-এ লেখেন, "মহামান্য সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ওমানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা করেছি। আমরা একমত যে, অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। ওমানে ভারতীয়দের পাশে থাকার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।"
এর আগে গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদী জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লার সঙ্গে কথা বলেন এবং জর্ডনের জনগণ ও দেশের শান্তি-সুরক্ষার প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ার "ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি" নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এই "কঠিন সময়ে" জর্ডনে থাকা ভারতীয়দের যত্ন নেওয়ার জন্য রাজাকে ধন্যবাদ জানান।
এক্স-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, "জর্ডনের রাজা মহামান্য দ্বিতীয় আবদুল্লার সঙ্গে কথা হয়েছে। অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। আমরা জর্ডনের জনগণ ও দেশের শান্তি-সুরক্ষার প্রতি আমাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি। এই কঠিন সময়ে জর্ডনে ভারতীয়দের যত্ন নেওয়ার জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।"
এর আগে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ এবং বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফার সঙ্গে আলাদাভাবে ফোনে কথা বলেন।
এই আলোচনাগুলিতে প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব ও বাহরাইনের ওপর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা করেন। এছাড়া, আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে ওই দেশগুলিতে বসবাসকারী বিশাল ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও পরিষেবা সম্পর্কেও তিনি খোঁজ নেন, যা প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষায় ভারতের অগ্রাধিকারকেই তুলে ধরে।
আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদী কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। রবিবার তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং শান্তি ফেরাতে অবিলম্বে সমস্ত হিংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য ভারতের আহ্বানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।