
কেন্দ্রীয় সরকার দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন নিয়ে বড়সড় আপডেট দিল। কাজ চলছে একদম যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। ২০২৭ সালের মধ্যেই এই হাই-স্পিড ট্রেন চালু হয়ে যাওয়ার কথা। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
রেলমন্ত্রী এই প্রজেক্ট নিয়ে বেশ কিছু বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখ অবশ্য এখনও ঘোষণা করা হয়নি। মোট ৫০৮ কিলোমিটার লম্বা এই রুটের কাজ খুব দ্রুত এগোচ্ছে। ২০২৭ সালের শেষ দিকেই এর প্রথম পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে। দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন আমেদাবাদ থেকে মুম্বইয়ের হাই-স্পিড রুটেই ছুটবে।
মুম্বইয়ে এই প্রজেক্টের অংশ হিসেবে একটা বিশাল রেলওয়ে স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে। বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সে (বিকেসি) মাটির ১০০ ফুট নিচে এই স্টেশন তৈরি হচ্ছে। গভীরতার দিক থেকে এটা একটা ১০ তলা বাড়ির চেয়েও বেশি। মুম্বইয়ের প্রাণকেন্দ্র বিকেসি-তেই এই হাই-স্পিড রেল করিডরের কাজ চলছে। পুরো করিডরের মধ্যে এটাই একমাত্র আন্ডারগ্রাউন্ড বা মাটির তলার স্টেশন। রেলমন্ত্রী একে 'ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক অদ্ভুত নিদর্শন' বলেছেন।
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাটির ৩২ মিটার গভীরে স্টেশন তৈরির জন্য খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। এখানে প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স আর সার্ভিস এরিয়া থাকবে। এত গভীরে মোট তিনটে লেভেল তৈরি করা হচ্ছে। এখানে ৪০০ মিটারেরও বেশি লম্বা মোট ছ'টি প্ল্যাটফর্ম বানানো হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, জলের তলায় ট্রেনের টানেল বানানোর জন্য ৩২০০ টন ওজনের একটা বিশাল মেশিন থানে ক্রিকের নিচে পাথর কাটছে। এই টানেলের মধ্যে দিয়েই বুলেট ট্রেন প্রচণ্ড বেগে ছুটবে। পুরো বুলেট ট্রেন করিডরটি ২১ কিলোমিটার লম্বা একটা টানেলের মধ্যে দিয়ে যাবে। এর মধ্যে ৭ কিলোমিটার অংশ থানে ক্রিকের জলের তলা দিয়ে যাবে। এটাই দেশের প্রথম আন্ডারওয়াটার বা সমুদ্রের তলার টানেল হতে চলেছে।