
উৎসবের মরশুম শুরুর আগেই ক্যাডেট প্রশিক্ষণরত অফিসারদের জন্য বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় সরকারের। এবার থেকে যে সব অফিসার ক্যাডেটরা সামরিক প্রশিক্ষণের কারণে সৃষ্ট হওয়া শারীরিক অক্ষমতার জন্য প্রশিক্ষণ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন, তাঁদেরকেও প্রাক্তন সৈনিকদের অবদানমূলক স্বাস্থ্য প্রকল্প (ECHS)-এর অধীনে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হবে। এই সুবিধার ফলে ওইসব তরুণ প্রশিক্ষণার্থীরাও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবেন, যা এতদিন শুধুমাত্র অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মীদের জন্য উপলব্ধ ছিল।
জানা গিয়েছে, ভারতের জাতীয় প্রতিরক্ষা অ্যাকাডেমি (NDA), ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি (IMA), এবং অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমি (OTA)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেসব ক্যাডেট দেশসেবার স্বপ্ন নিয়ে যোগ দেন, প্রশিক্ষণের সময় অনেক সময় তাঁদেরকে সারা জীবনের জন্য অক্ষমতাকে বরণ করতে হয়। এতদিন পর্যন্ত, এই ধরনের ক্যাডেটরা এক্স-সার্ভিসম্যান (ESM) মর্যাদা পেতেন না বলে তাঁরা প্রাক্তন সৈনিকদের জন্য প্রযোজ্য এক্স-সার্ভিসমেন কন্ট্রিবিউটরি হেলথ স্কিম (ECHS)-এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
ভারত সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব ক্যাডেট প্রশিক্ষণ শেষ করার আগেই স্বাস্থ্যগত কারণে বাদ পড়েছেন, এবং ভবিষ্যতে যারা এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন, তাঁদের সবাইকেই এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, পরিবারগুলোর আর্থিক ও মানসিক চাপ কমানোর জন্য 'মানবিক কারণে' এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে ওইসব ক্যাডেটরা ECHS পলিক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে বহির্বিভাগের (OPD) চিকিৎসা পাবেন। এর পাশাপাশি, ECHS-এর তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলোতে বহির্বিভাগ (OPD), আন্তঃবিভাগ (IPD) এবং বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য তাঁরা নগদহীন (cashless) চিকিৎসার সুযোগও পাবেন। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র ক্যাডেটদের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং তাঁদেরকে ECHS-এর নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে ক্যাডেটকে অন্য কোনও সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় থাকা চলবে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রাক্তন সৈনিক অফিসারদের কাছ থেকে সাধারণত যে ১.২ লক্ষ টাকার এককালীন ফি নেওয়া হয়। এই ক্যাডেটদের ক্ষেত্রে সেই ফি দিতে হবে না। যদিও প্রতি বছর অল্প সংখ্যক ক্যাডেট এই ধরনের সমস্যার শিকার হন। তাঁদের পরিবারের উপর এর আর্থিক বোঝা ব্যাপক। বর্তমানে, এই ক্যাডেটরা তাঁদের অক্ষমতার মাত্রা (২০% থেকে ১০০%) অনুযায়ী একটি মাসিক আর্থিক অনুদান এবং একটি ডিসঅ্যাবিলিটি অ্যাওয়ার্ড পেয়ে থাকেন। কিন্তু এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তাঁরা ECHS নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সীমাছাড়া ও নগদহীন স্বাস্থ্য পরিষেবাও পাবেন।২০০৩ সালে চালু হওয়া ECHS প্রকল্প দেশের প্রায় ৬৩ লক্ষ সুবিধাভোগীকে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে থাকে। বর্তমানে সারা দেশে এর ৩০টি আঞ্চলিক কেন্দ্র, ৪৪৮টি পলিক্লিনিক এবং ৩,০০০-এরও বেশি তালিকাভুক্ত হাসপাতাল রয়েছে।