Climate Risk: ভারতের ৯০% সবুজ শক্তি প্রকল্পই বড় ঝুঁকির মুখে, বলছে রিপোর্ট

Published : Jun 28, 2026, 11:58 AM IST
Climate Risk: ভারতের ৯০% সবুজ শক্তি প্রকল্পই বড় ঝুঁকির মুখে, বলছে রিপোর্ট

সংক্ষিপ্ত

জুরিখ গ্রুপের একটি রিপোর্ট সতর্ক করেছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের পরিকল্পিত নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পগুলির ৯০ শতাংশই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বড়সড় ঝুঁকির মুখে পড়বে। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে সৌর, বায়ু এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রও রয়েছে। রিপোর্টে এই ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে জুরিখ গ্রুপ। তাদের মতে, এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, কারণ অনেক প্রকল্প এখনও পরিকল্পনা বা নির্মাণের পর্যায়ে রয়েছে। এই অবস্থায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুললে খরচ সবচেয়ে কম হবে। রিপোর্টে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের পরিকল্পিত সবুজ শক্তি কেন্দ্রগুলির ৯০ শতাংশই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উচ্চ বা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।

দশটি রাজ্যের মোট ৮৭১টি প্রকল্প বিশ্লেষণ করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, যাদের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৬৭ গিগাওয়াট। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এর মধ্যে ৬৬ শতাংশ প্রকল্পই ২০৩০ সালের মধ্যে 'গুরুতর' ঝুঁকির তালিকায় চলে আসবে। তবে রিপোর্ট অনুযায়ী, "এটা ভয় পাওয়ার কারণ নয়, বরং এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার সময়।"

নবায়নযোগ্য শক্তি: ঝুঁকি কোথায় কতটা

রিপোর্ট অনুযায়ী, সবুজ শক্তির পরিকল্পনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। মোট ৫৯৩টি প্রকল্পে প্রায় ১,৮২,২৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা মোট ক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, ২৩০টি বায়ু শক্তি প্রকল্পে ৪৪,১৭৭ মেগাওয়াট এবং মাত্র ৪৮টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৪০,১৮৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। তবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ মূলধন লাগে বলে এখানে আর্থিক ঝুঁকি অনেক বেশি।

জুরিখ গ্রুপ টর্নেডো, দাবানল, বন্যা এবং শিলাবৃষ্টিকে প্রধান বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সৌর প্রকল্পের ক্ষেত্রে, "শিলাবৃষ্টির ফলে সোলার প্যানেলের কাঁচ ভেঙে যেতে পারে এবং এমন সূক্ষ্ম ক্ষতি হতে পারে যা পরে উৎপাদন কমিয়ে দেয়।"

বায়ু শক্তি প্রকল্পগুলি "তীব্র গতির বাতাস, বন্যা এবং বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের" মতো ঝুঁকির মুখে রয়েছে। আর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে "পুরনো দিনের জলপ্রবাহের তথ্যের ওপর নির্ভর করাটা এখন আর নিরাপদ নয়।"

ঝুঁকি মোকাবিলায় জুরিখের ৫-দফা পরামর্শ

রিপোর্টে ঝুঁকি মোকাবিলায় পাঁচটি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে: ১) পরিকল্পনার সময় জলবায়ু ঝুঁকির স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করা, ২) সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পগুলির স্ট্রেস-টেস্ট করা, ৩) প্রতিটি বিপদের কথা মাথায় রেখে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা, ৪) সিস্টেমের সুরক্ষাকে প্রকল্পের সুরক্ষার অংশ হিসেবে দেখা, এবং ৫) ঝুঁকির পরিমাণ নির্ধারণ করে মূলধন জোগাড় করা।

প্রতিরোধ ব্যবস্থায় আর্থিক লাভ

রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছে যে, "প্রকল্পের মোট খরচের প্রায় ২ শতাংশ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করলে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে।" এর মানে, খরচের তুলনায় প্রায় ৩৮ গুণ বেশি লোকসান এড়ানো সম্ভব।

কেস স্টাডি: সৌর প্রকল্পে প্রতিরোধের কার্যকারিতা

একটি ২.৫ গিগাওয়াটের সৌর প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে দেখানো হয়েছে যে, প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া ক্ষতির আশঙ্কা ছিল প্রায় ১৭৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু একটি শিলাবৃষ্টি ট্র্যাকার বসানোর পর সেই ক্ষতির পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৪৩ মিলিয়ন ডলারে। এর জন্য অতিরিক্ত খরচ হয়েছিল প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ডলার, যা "একটি ফিক্সড-টিল্ট সিস্টেমের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।"

জুরিখের মতে, “প্রকল্পের নকশার শুরুতেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা যোগ করাটা কোনও অতিরিক্ত খরচ নয়। বরং এটি একটি নির্ভরযোগ্য, বিমাযোগ্য এবং টেকসই শক্তি পরিকাঠামো তৈরির বাস্তবসম্মত উপায়।”

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Char Dham Yatra: হেলিকপ্টারে চার ধাম যাত্রা, প্রথম পর্বে পরিষেবা পেলেন ৭৮ হাজারেরও বেশি পুণ্যার্থী
PV Narasimha Rao: 'এক সংকটময় পর্ব সামলেছিলেন' জন্মবার্ষিকীতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ মোদীর! কী বললেন তিনি?