ATM Transaction: এটিএম থেকে টাকা না বেরোলেও এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়। এই নিয়ে ব্যাঙ্কে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। শেষে আদালতের নির্দেশে ওই গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয় ব্যাঙ্ক।
ATM Transaction: এটিএম থেকে টাকা তোলার সময় এমন ঘটনা অনেকের সঙ্গেই ঘটে। টাকা হাতে এল না, কিন্তু অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়ার মেসেজ চলে এল। সাধারণত, ব্যাঙ্কে অভিযোগ জানালে সেই টাকা ফেরত পাওয়া যায়। কিন্তু ব্যাঙ্ক যদি আপনার অভিযোগকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে তাদের বড়সড় ক্ষতিপূরণও দিতে হতে পারে। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে আদালত ব্যাঙ্কের গাফিলতিকে তুলে ধরে গ্রাহকের পক্ষে রায় দিয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
কেরলের এক বাসিন্দা একটি এটিএম থেকে ১০ হাজার টাকা তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু মেশিন থেকে টাকা বেরোয়নি। অথচ, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা কেটে নেওয়া হয়। এরপর ওই ব্যক্তি ব্যাঙ্কে বারবার অভিযোগ জানান, কিন্তু ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কোনওরকম গা করেনি। ঘটনাটি কেরলের পালক্কাড জেলার। সেখানকার ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি এটিএম থেকে ওই ব্যক্তি টাকা তোলার চেষ্টা করেছিলেন। টাকা হাতে না পেলেও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়ার মেসেজ পান তিনি। ব্যাঙ্কে বারবার অনুরোধ করেও কোনও সুরাহা হয়নি।
অনেক দিন কেটে যাওয়ার পরেও যখন টাকা অ্যাকাউন্টে ফেরত এল না, তখন তিনি ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে (Consumer Commission) অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতে শুনানির সময় ব্যাঙ্ক দাবি করে যে, এটিএম থেকে টাকা বেরিয়েছিল। কিন্তু নিজেদের এই দাবির সপক্ষে তারা কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি। অন্যদিকে, ওই গ্রাহক সততার সঙ্গে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। শেষ পর্যন্ত আদালত এই ঘটনাকে ব্যাঙ্কের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গাফিলতি বলে মনে করে এবং গ্রাহকের অভিযোগের সমাধান না করায় ব্যাঙ্ককে দোষী সাব্যস্ত করে।
আদালত ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দেয়, গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া ১০ হাজার টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। শুধু তাই নয়, এতদিন ধরে গ্রাহকের মানসিক চাপ, হয়রানি এবং সময় নষ্টের জন্য আরও ৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ব্যাঙ্ককে মোট ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
যদি আপনার সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটে, অর্থাৎ এটিএম থেকে টাকা না বেরোলেও অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে যায়, তাহলে প্রথমে ব্যাঙ্কে অভিযোগ জানান। অভিযোগের রেফারেন্স নম্বরটি যত্ন করে রেখে দিন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাঙ্ক সাহায্য না করলে আপনি ব্যাঙ্কিং ন্যায়পাল (Banking Ombudsman) বা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন। এই সংস্থাগুলি আইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের অধিকার রক্ষা করে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


