ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণের নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA (Directorate General of Civil Aviation) খুব শীঘ্রই একটি নতুন নিয়ম চালু করতে চলেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, ভারতীয় এবং বিদেশি বিমান সংস্থাগুলিকে ভারতের সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের আন্তর্জাতিক উড়ানের ফলে হওয়া বার্ষিক কার্বন নিঃসরণের অন্তত ৯০ শতাংশ তথ্য জমা দিতে হবে। সূত্রের খবর, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল সব বিমান সংস্থার জন্য নিয়ম এক রাখা এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে কোনও বৈষম্য তৈরি হতে না দেওয়া।
আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণের জন্য কার্বন নিঃসরণ কমানোর আন্তর্জাতিক চুক্তি CORSIA (Carbon Offsetting and Reduction Scheme for International Aviation)-র নিয়ম মানার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে এই নতুন নিয়ম আনা হচ্ছে। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু পরিবেশবান্ধব বিমান জ্বালানি (Sustainable Aviation Fuel বা SAF) নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন।
বৈঠকের পর মন্ত্রী বলেন, "আমরা পরিবেশবান্ধব বিমান জ্বালানি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছি... ভারত ২০২৭ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক উড়ানের জন্য ব্যবহৃত জ্বালানিতে ১% SAF মেশানোর CORSIA লক্ষ্যমাত্রায় রাজি হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই মাত্রা বাড়িয়ে ২% এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৫% করা হবে। এই ১% লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। আমাদের তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) দেশেই SAF তৈরির জন্য সেরা প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসছে। পানিপত এবং মুম্বই শোধনাগারে SAF তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। আমরা বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও SAF উৎপাদনে উৎসাহিত করতে চাই।"
তেল বিপণন সংস্থাগুলি দেশে SAF উৎপাদন বাড়ানোর জন্য একসঙ্গে কাজ করছে। পানিপত এবং মুম্বইয়ের শোধনাগারগুলিতে উৎপাদন শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। সরকারও চাইছে বেসরকারি সংস্থাগুলি এই জ্বালানি তৈরিতে এগিয়ে আসুক।
বৈঠকে SAF-এর সাপ্লাই চেন, উৎপাদনের সময়সীমা, সার্টিফিকেশন এবং ICAO/CORSIA-র নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্টিং কাঠামো তৈরির মতো বিষয়গুলি পর্যালোচনা করা হয়। অসামরিক বিমান পরিবহণ, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের আধিকারিকদের পাশাপাশি DGCA, বিভিন্ন বিমান সংস্থা, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেন।
ভারতে SAF সংক্রান্ত খসড়া নীতিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, যাত্রী বা বিমান সংস্থাগুলির উপর যাতে বাড়তি আর্থিক বোঝা না চাপিয়ে এই ১ শতাংশ মিশ্রণের লক্ষ্য পূরণ করা যায়।
CORSIA-র বাধ্যতামূলক পর্ব শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। কার্বন নিঃসরণের তথ্য জমা দেওয়ার নতুন নিয়ম এবং দেশে SAF উৎপাদন বাড়ানোর এই উদ্যোগ ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলতে এবং বিশ্বজুড়ে দূষণ কমানোর প্রচেষ্টায় শামিল হতে সাহায্য করবে।