ভ্যাকসিন নেই, নেই কোনও চিকিৎসাও! ভারতে নিপা ভাইরাস কীভাবে আটকানো যাবে?

Published : Jan 27, 2026, 09:28 AM IST
ভ্যাকসিন নেই, নেই কোনও চিকিৎসাও! ভারতে নিপা ভাইরাস কীভাবে আটকানো যাবে?

সংক্ষিপ্ত

ভারতে নিপা ভাইরাসের কেস সামনে আসার পর থাইল্যান্ড, নেপাল এবং তাইওয়ান সহ অনেক এশীয় দেশ বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং কঠোর করেছে। উচ্চ মৃত্যুহার এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের আশঙ্কার কারণে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি হাই অ্যালার্টে রয়েছে।

ভারতে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব: ভারতে নিপা ভাইরাসের নতুন কেস নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে শুধু দেশেই নয়, পুরো এশিয়া জুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই সেই ভাইরাস যার মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বলা হয়। পশ্চিমবঙ্গে এর কেস সামনে আসতেই অনেক এশীয় দেশ সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দর স্ক্রিনিং, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং যাত্রীদের উপর নজরদারি কঠোর করে দিয়েছে।

নিপা ভাইরাস নিয়ে ভয়টা আরও বেশি কারণ এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে এবং এখনও পর্যন্ত এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন নেই। এই কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO) এটিকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এবং মহামারী ছড়ানোর ক্ষমতাসম্পন্ন ভাইরাস হিসেবে মনে করে।

ভারতে নিপা ভাইরাসের কেস কোথায় এবং কীভাবে সামনে এল?

স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, কলকাতার কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপর দ্রুত কন্টাক্ট ট্রেসিং শুরু করা হয়। প্রায় ১০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে, এবং ১৮০ জনেরও বেশি লোকের পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ২০ জন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণীতে রয়েছেন, যদিও স্বস্তির বিষয় হলো এখনও পর্যন্ত সকলের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। সংক্রমিত নার্সদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে, যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারত থেকে ভ্রমণকারীদের উপর কোন দেশগুলি কঠোরতা অবলম্বন করেছে?

থাইল্যান্ড কেন সবচেয়ে বেশি সতর্ক?

থাইল্যান্ড ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য তাদের বড় বিমানবন্দর—সুবর্ণভূমি, ডন মুয়াং এবং ফুকেট—এ স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করেছে। যাত্রীদের জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং অন্যান্য লক্ষণের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়াও, হেলথ অ্যালার্ট কার্ড দেওয়া হচ্ছে যাতে লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করা যায়। প্রয়োজনে যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনেও রাখা হতে পারে।

নেপাল সীমান্ত এবং বিমানবন্দরে কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

নেপাল ভারত সংলগ্ন সীমান্ত এবং ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য ডেস্ক তৈরি করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলিকে সামান্যতম সন্দেহ হলেই সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারত-নেপাল সীমান্তে ক্রমাগত যাতায়াত নিয়ে নেপাল সরকার বিশেষভাবে চিন্তিত।

তাইওয়ান নিপাকে সবচেয়ে বিপজ্জনক শ্রেণীতে কেন রেখেছে?

তাইওয়ান নিপা ভাইরাসকে ক্যাটাগরি-৫ নোটিফায়েবল ডিজিজ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা সেখানকার সবচেয়ে গুরুতর রোগের শ্রেণী। এর মানে হলো, যদি কোনো কেস পাওয়া যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্টিং, কঠোর আইসোলেশন এবং নিয়ন্ত্রণ জরুরি হবে। বর্তমানে ভারতের কিছু অংশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

আসলে নিপা ভাইরাস কী এবং এটি এত বিপজ্জনক কেন?

নিপা ভাইরাস একটি জুনোটিক রোগ, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এর প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে ফলখেকো বাদুড়কে মনে করা হয়। এই ভাইরাস দূষিত ফল বা খাবার খাওয়া থেকে, সংক্রমিত শূকরের সংস্পর্শে আসা থেকে বা সংক্রমিত মানুষের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ থেকে ছড়াতে পারে।

নিপা ভাইরাসের লক্ষণগুলি কী কী?

প্রাথমিক লক্ষণ:

  • জ্বর
  • মাথাব্যথা
  • গায়ে ব্যথা
  • বমি
  • গলায় ঘা

গুরুতর অবস্থায়:

  • শ্বাসকষ্ট
  • নিউমোনিয়া
  • অজ্ঞান বা বিভ্রান্তি
  • মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)

অনেক সময় রোগীর মধ্যে প্রথমে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

নিপা ভাইরাস থেকে বাঁচা কি সম্ভব?

বর্তমানে নিপা ভাইরাসের কোনো চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন নেই। চিকিৎসা শুধুমাত্র লক্ষণের উপর ভিত্তি করে সহায়ক পরিচর্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই কারণেই সরকার প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং এবং সচেতনতার উপর বেশি জোর দিচ্ছে। ভারতে নিপা ভাইরাসের কেস সামনে আসার পর এশিয়ার অ্যালার্ট মোডে আসা এই ইঙ্গিত দেয় যে এই ভাইরাসটি কতটা বিপজ্জনক এবং সংবেদনশীল বলে মনে করা হয়। সময়মতো সতর্কতাই এটি থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

৭-৮% জিডিপি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের আশা, বাজেট ২০২৬-২৭ নিয়ে FICCIর একগুচ্ছ প্রস্তাব
গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে ঘটালেন মারাত্মক দুর্ঘটনা, গ্রেফতার প্রাক্তন ক্রিকেটার জ্যাকব মার্টিন