১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। সেই থেকে প্রতি বছর এই দিনটি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হয়। স্বাধীনতার এত বছর পর ভারতের জনসংখ্যা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে, আসুন দেখে নেওয়া যাক কিছু অবাক করা তথ্য।
১৯৪৭ সালে ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ কোটি (৩৪০ মিলিয়ন)। স্বাধীনতার পর দেশের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ১৯৫১ সালের প্রথম জনগণনায় ভারতের জনসংখ্যা নথিভুক্ত হয় প্রায় ৩৬.১ কোটি। সেই সময়ে চিকিৎসা পরিষেবা সীমিত থাকলেও, দেশ উন্নয়নের পথে এগোনোয় জনসংখ্যাও দ্রুতগতিতে বাড়ে।
24
তিন দশকে জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ
১৯৫১ থেকে ১৯৮১, এই ৩০ বছরে দেশের জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। ১৯৮১ সাল নাগাদ ভারতের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬৮.৩ কোটিতে। এই সময়ে জন্মহার বেশি ছিল, কিন্তু উন্নত চিকিৎসা, টিকাদান কর্মসূচি এবং পরিচ্ছন্নতার কারণে মৃত্যুহার কমে যায়। ফলে জনসংখ্যা আরও দ্রুত বাড়ে। বিশেষ করে ১৯৬১-১৯৭১ দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২৪.৮ শতাংশ, যা ভারতের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ।
34
২০০১ সালের পর জনসংখ্যা বৃদ্ধি কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে?
১৯৮১ সালের পর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। কিন্তু, ততদিনে দেশের মোট জনসংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় সংখ্যাটা বাড়তেই থাকে। ২০০১ সালে ভারত ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) জনসংখ্যার গণ্ডি পার করে। এরপর ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, দেশের জনসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১২১ কোটিতে। এই সময়ে বৃদ্ধির হার কমে ১৭.৭ শতাংশে পৌঁছায়। পরিবার পরিকল্পনা, শিক্ষা এবং নগরায়ন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১৪৭.৬৬ কোটিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, স্বাধীনতার সময়ের ৩৪ কোটি জনসংখ্যার তুলনায় এটি চার গুণেরও বেশি। বর্তমানে ভারত বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৭.৮ শতাংশ মানুষ ভারতেই বাস করেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং খাদ্য সুরক্ষার মতো ক্ষেত্রেও দেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।