
ভারত ২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যে (নেট-জিরো) নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য পরমাণু শক্তিতে আত্মনির্ভর হওয়ার পথেই হাঁটছে দেশ। সম্প্রতি একটি সংসদীয় প্যানেল দেশের পরমাণু শক্তি সংক্রান্ত নতুন কৌশল পর্যালোচনা করেছে। এই পরিকল্পনায় একদিকে যেমন দেশের পারমাণবিক চুল্লিগুলোর ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, তেমনই জ্বালানির ঘাটতি মেটাতে নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তি করার কথাও ভাবা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন মেধা বিশ্রাম কুলকার্নি ANI-কে জানিয়েছেন, এই প্যানেল ভারতের বর্তমান পারমাণবিক কার্যকলাপ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে। তিনি বলেন, "আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমিটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে পরমাণু বিজ্ঞান, বিশেষ করে পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতে এখন কী কাজ হচ্ছে, কতগুলো পারমাণবিক চুল্লি চালু আছে এবং ভবিষ্যতে কী পরিকল্পনা রয়েছে, তা নিয়ে কথা হয়েছে।"
কমিটির আলোচনা অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে দেশের শক্তি সুরক্ষার জন্য দেশীয় খনিজ ভান্ডারের উপর নির্ভর করা হবে। একই সঙ্গে, বর্তমান চাহিদা মেটাতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হবে।
মেধা বিশ্রাম কুলকার্নি জানান, "সৌরশক্তির পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তি কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইউরেনিয়ামের ঘাটতি মেটাতে ভারতের বিশাল থোরিয়াম ভান্ডারকে কাজে লাগানোর কথা হয়েছে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তিতে আত্মনির্ভর হওয়ার একটি পথ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দূষণকারী জ্বালানির ব্যবহার কমাতে দেশ একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎপাদন বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, "ভারত ২০৭০ সালের মধ্যে নেট-জিরো নির্গমনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। জ্বালানির সমস্যা, এর সহজলভ্যতার অভাব এবং উচ্চ কার্বন নির্গমনের মতো বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য একাধিক দিকে কাজ চলছে। বিশেষ করে সৌরশক্তি এবং পারমাণবিক শক্তির ক্ষমতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।"
তিনি জানান, দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশের জন্য সরকার এখন গবেষণায় বরাদ্দ বাড়িয়েছে, যা এই ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, বিদেশি সহযোগী দেশগুলো থেকে জ্বালানি আমদানি করা হবে। কুলকার্নি বলেন, "ভারত আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে, গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) প্রচুর অর্থ খরচ করছে এবং উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আলোচনার সময় অনেক দ্বিধা দূর হয়েছে। এই প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া ভারতকে পুরোপুরি সমর্থন করতে চলেছে এবং আমরা তাদের কাছ থেকে ইউরেনিয়ামও পাব।"
তবে, আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে চেয়ারপার্সন জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই আলোচনার মাধ্যমে আগামী দিনে দপ্তর কী কী পদক্ষেপ নেবে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি হয়েছে।
মেধা বিশ্রাম কুলকার্নি শেষে বলেন, “বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কমিটির মধ্যে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়, তাই সব বিবরণ প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু এটি একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা ছিল। দেশকে প্রথমে রেখে, দপ্তর কী করছে সে সম্পর্কে আমরা চমৎকার তথ্য পেয়েছি এবং একটি অর্থপূর্ণ মতবিনিময় হয়েছে।”