Teesta Project: তিস্তা নিয়ে আলোচনা চলবে, তবে পুরনো পথেই: সাফ কথা ভারতের

Saborni Mitra   | ANI
Published : Aug 18, 2026, 09:22 PM IST
India and Bangladesh Flag

সংক্ষিপ্ত

তিস্তা ও অন্যান্য নদী নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলবে। তবে তা হবে দ্বিপাক্ষিক জয়েন্ট রিভারস কমিশন (JRC) এবং নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যেই। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই কথা জানিয়েছে। তিস্তা প্রকল্পে নয়াদিল্লির অবস্থান ইতিমধ্যেই ঢাকাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

তিস্তা এবং অন্যান্য অভিন্ন নদীর জলবন্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলবে। তবে সেই আলোচনা দ্বিপাক্ষিক জয়েন্ট রিভারস কমিশন (JRC) এবং আগে থেকে তৈরি হওয়া কাঠামোগত ব্যবস্থার মাধ্যমেই হবে। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এই কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে। পাশাপাশি, তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান যে ইতিমধ্যেই ঢাকাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে তিস্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং জল সংক্রান্ত বিষয়গুলি নির্দিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাধান করা হয়।

জয়সওয়াল বলেন, "বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনেকগুলো অভিন্ন নদী আছে। নির্দিষ্ট করে বললে, সংখ্যাটা ৫৪। জল সংক্রান্ত সমস্ত সহযোগিতা বা আলোচনা দুই দেশের মধ্যে জয়েন্ট রিভারস কমিশনের মাধ্যমেই হয়। এর জন্য আমাদের নির্দিষ্ট কাঠামোগত ব্যবস্থাও রয়েছে।" ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা একটি বহু পুরনো সমস্যা। এর সঙ্গে শুধু জলবন্টনই নয়, সার্বিক নদী ব্যবস্থাপনার বিষয়ও জড়িত। বাংলাদেশ তিস্তার জলের ন্যায্য ভাগ দাবি করে আসছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নিজেদের জলের প্রয়োজনের যুক্তিতে বিরোধিতার কারণে একটি সার্বিক জলবন্টন চুক্তি এখনও আটকে আছে। দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জল চুক্তি অনুযায়ী ফারাক্কা ব্যারাজে শুখা মরসুমের জলবন্টন নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু একাধিকবার দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সত্ত্বেও তিস্তা সমস্যার সমাধান হয়নি।

২০১১ সালে একটি চুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছিল। তাতে তিস্তার জলের ৪২.৫ শতাংশ ভারতকে এবং ৩৭.৫ শতাংশ বাংলাদেশকে দেওয়ার কথা ছিল। বাকি জল অন্যান্য দিক বিবেচনার জন্য রাখা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের আপত্তিতে সেই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। ভারত আগেও জানিয়েছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে জল সংক্রান্ত বিষয়গুলি নির্দিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আলোচনা করা হয়, যার বৈঠক নিয়মিতভাবে হয়ে থাকে। গত মাসেও বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র 'তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্ট' নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নয়াদিল্লির মতামত ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জয়সওয়াল গত মাসে বলেছিলেন, "বাংলাদেশে ভারতের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি একটি পারস্পরিকভাবে সম্মত রোডম্যাপের উপর ভিত্তি করে চলে, যা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে আমাদের মতামত আগেই বাংলাদেশ পক্ষকে জানানো হয়েছে। তিস্তা ইস্যুতে আমরা সমস্ত প্রাসঙ্গিক বিষয় মাথায় রেখেই আমাদের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করব।"

বর্তমানে তিস্তা প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের চিন সফরের পর এই জল্পনা বাড়ে। তিনি জানিয়েছিলেন যে এই প্রকল্পের জন্য বেইজিং-এর সমর্থন পেয়েছে ঢাকা। চিন অবশ্য জানিয়েছে যে তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের প্রস্তাবিত সহযোগিতা কোনও তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয়। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জুনে বলেছিলেন, বেইজিং বাংলাদেশের তিস্তা নদীর সার্বিক সংস্কার ও পুনর্বাসন প্রকল্পে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তিনি এটিকে ঢাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনজীবিকার প্রকল্প বলে বর্ণনা করেন। গুও বলেন, "তিস্তা নদীর সার্বিক সংস্কার ও পুনর্বাসন প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনজীবিকার প্রকল্প। চিন এই প্রকল্পে তার সাধ্যমতো সহায়তা করতে প্রস্তুত।" চিনের অংশগ্রহণের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের জবাবে গুও বলেন, "আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে চিন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনও তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকেও মুক্ত থাকা উচিত।"

অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রক আজ জানিয়েছে যে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ৮,০০০ লিটার জ্বালানির জন্য যে অনুরোধ করেছে, তা ভারত খতিয়ে দেখছে। নয়াদিল্লি নিজেদের চাহিদা, শোধনাগারের ক্ষমতা এবং জ্বালানির জোগান বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেবে। ঢাকার অনুরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের একটি চলমান শক্তি সহযোগিতা কাঠামো রয়েছে। তিনি বলেন, "অতিরিক্ত জ্বালানির অনুরোধের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের নিজেদের চাহিদা, শোধনাগারের ক্ষমতা এবং আমাদের দিকে জোগান কেমন আছে, তা বিবেচনা করছি।" বাংলাদেশের আটকে থাকা পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি পুনরায় শুরু করার জন্য ঢাকা নয়াদিল্লির কাছে কোনও আবেদন করেছে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়ে ভারতের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "ভারত পারস্পরিক স্বার্থ এবং আদানপ্রদানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং দূরদর্শী সম্পর্ক চায়।" এই মন্তব্যগুলি এমন সময়ে এল যখন ভারত ও বাংলাদেশ জল, শক্তি এবং উন্নয়ন সহযোগিতার মতো বিষয়গুলিতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পারস্পরিক উদ্বেগের ক্ষেত্রগুলি সমাধানের জন্য প্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

PM Modi@25: মোদীর জনসেবার ২৫ বছর পূর্ণ, BJP-র দেশজোড়া কর্মসূচি কী কী কর্মসূচি? রইল তালিকা
Aadhaar Update: স্কুলের বাচ্চাদের আধার নিয়ে বড় খবর, ২ কোটির বেশি বায়োমেট্রিক আপডেট করল UIDAI