প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞনেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে পথে নেমেছে যুব কংগ্রেস। দিল্লি, জয়পুর ও লখনউয়ে তাদের মিছিলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞনেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। এই দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন জোরদার করেছে কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেস। দিল্লি, জয়পুর এবং লখনউয়ের মতো বড় শহরগুলোতে যুব কংগ্রেসের মিছিলে রীতিমতো ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। জয়পুরে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ছোড়ে পুলিশ। অন্যদিকে, দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর ঘেরাও করতে যান কর্মীরা। অভিনব প্রতিবাদ হিসেবে তারা নরেন্দ্র মোদী ও জ্ঞনেশ কুমারের মুখোশ পরে মিছিলে হাঁটেন।
দিল্লিতে এই রাস্তা অবরোধ ও মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিব। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই চলবে। জ্ঞনেশ কুমারকে অবিলম্বে ইস্তফা দিতে হবে বলেও দাবি তোলেন তিনি। ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ দেখানোর সময় উদয় ভানু চিব-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে পুলিশ। নির্বাচন কমিশন অফিসের দিকের সব রাস্তা আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যুব কংগ্রেস সদর দফতরের সামনেও মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, জ্ঞনেশ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই তীব্র আন্দোলন চলবে।
আন্দোলনে ঝাঁজ বাড়াচ্ছে সিপিএম
এদিকে, দিল্লিতে সিপিএমের সদর দফতর একেজি ভবন থেকে ভগৎ সিং মেমোরিয়াল পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করেন বাম নেতারা। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির নেতৃত্বে এই মিছিল হয়। মিছিলের উদ্বোধন করে এম এ বেবি কড়া ভাষায় বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞনেশ কুমারের আর এক মুহূর্তও পদে থাকার অধিকার নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তিনি যে দোষী, তা স্পষ্ট। তা সত্ত্বেও তিনি নির্লজ্জের মতো পদ আঁকড়ে পড়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে আড়াল করছেন বলেও অভিযোগ করেন বেবি। তিনি আরও বলেন, 'এসআইআর' (SIR)-এর মতো এই প্রহসন অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিশিষ্ট ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ মানুষকে একজোট করে এই আন্দোলন আরও বড় করা হবে। আগামী দিনে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেও এই ইস্যুটি জোরালোভাবে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিএম। আগামীকাল অন্যান্য বাম দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনেরও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।


