
নাগপুরের কোম্পানি সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেড ভারতীয় সেনার হাতে 'নাগাস্ত্র-২' অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক লোইটার মিউনিশন তুলে দিচ্ছে। এই অস্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি এক নজরে দেখুনঃ
এই অস্ত্রে দিন ও রাতে নজরদারি চালানোর জন্য বিশেষ ক্যামেরা রয়েছে। সঙ্গে আছে ৪ কেজির ট্যান্ডেম শেপড-চার্জ ওয়ারহেড। এটি ৬৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত পুরু রোলড হোমোজিনিয়াস আর্মার (RHA) বা বর্ম ভেদ করে শত্রুর ঘাঁটিতে আঘাত হানতে পারে।
এর পাল্লা বা রেঞ্জও বেশ নজরকাড়া। 'রিকভার অ্যান্ড রিইউজ' মোডে এটি ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। আর 'ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট' মোডে এর পাল্লা ৫০ কিলোমিটার। আকাশে টানা ৬০ মিনিট পর্যন্ত উড়তে পারে এই অস্ত্র। ফলে শত্রুর সাঁজোয়া যান বা ট্যাঙ্কে নিখুঁত নিশানায় হামলা চালানো এখন সেনার জন্য আরও সহজ হবে।
এই নাগাস্ত্র-২ এর সবচেয়ে বড় চমক হলো এর ইলেকট্রনিক কাউন্টার-কাউন্টারমেজার্স (ECCM) প্রযুক্তি। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুরা অনেক সময় জ্যামিং করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে। কিন্তু এই প্রযুক্তির সাহায্যে কমিউনিকেশন জ্যামিং, জিপিএস জ্যামিং বা স্পুফিংয়ের মতো ইলেকট্রনিক যুদ্ধের হুমকিও অনায়াসে এড়িয়ে কাজ করতে পারবে এই অস্ত্র।
ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই নাগাস্ত্র-২ তৈরি এবং সেনার হাতে তুলে দেওয়াটা একটা বড় পদক্ষেপ। এর ফলে ভারতীয় সেনা আরও আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর লোইটার মিউনিশন সিস্টেম পেল।
সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেড জানিয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে (MFFR) এই নাগাস্ত্র-২ এর টেকনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে শেষ হয়েছে। সেখানে এর সমস্ত কাজ এবং ইসিসিএম (ECCM) প্যারামিটারগুলো খতিয়ে দেখা হয়।
কোম্পানির বিবৃতি অনুযায়ী, এর আগে ২০২৫ সালে ভারতীয় সেনা সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেডকে (SDAL) প্রায় ৪৫০টি নাগাস্ত্র-১আর (NAGASTRA-1R) লোইটারিং মিউনিশন তৈরির বরাত দিয়েছিল।
এই নাগাস্ত্র-১আর বেশ সাশ্রয়ী এবং এর লঞ্চার সিস্টেম পুরোপুরি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য। এই আধুনিক লোইটারিং মিউনিশন সিস্টেমে ৩৬০ ডিগ্রি গিম্বাল ক্যামেরা রয়েছে। রাতের বেলা অপারেশনের জন্য এতে থার্মাল ক্যামেরাও লাগানো যায়।
ভিডিও এবং টেলিমেট্রি যোগাযোগের জন্য এতে নিজস্ব এনক্রিপশন ব্যবস্থা রয়েছে। এর টার্গেটিং সিস্টেম এতটাই নিখুঁত যে ২ মিটার সিইপি (CEP) এর মধ্যে আঘাত হানতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এর ৮০ শতাংশের বেশি যন্ত্রাংশ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি।
লাদাখ এবং উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির কাছে ববিনা-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই সিস্টেমগুলোর সফল পরীক্ষা করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।