
অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তান কোনও দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী গ্রাউন্ড অপারেশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। একথা জানালেন ভারতের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে পাকিস্তানে ঢুকে হামলা করার জন্য তৈরি ছিল ভারতীয় সেনা। সেনাপ্রধান জোর দিয়ে বলেন যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রচলিত সামরিক অভিযানের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করেছে ভারত। দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, 'ওই ৮৮ ঘণ্টায় আপনারা দেখেছেন যে প্রচলিত যুদ্ধের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের জন্য সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি এমন ছিল যে, পাকিস্তান কোনও ভুল করলে আমরা গ্রাউন্ড অপারেশন চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম।'
সেনাপ্রধান উল্লেখ করেন যে মন হয়েছিল যে প্রচলিত অভিযানের ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে এবং সংঘাতগুলো উপ-প্রচলিত পর্যায় থেকে দ্রুত পরমাণু পর্যায়ে চলে যেতে পারে। তবে তিনি বলেন, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের প্রতিক্রিয়া মাঠ পর্যায়ে একটি ভিন্ন বাস্তবতা প্রমাণ করেছে। তিনি বলেন, 'এবার আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম—বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরে যে ধরনের গোলাগুলি হয়েছিল এবং আমরা যেভাবে তার মোকাবিলা করেছি—তা দেখিয়েছে যে আমরা প্রচলিত যুদ্ধের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করেছি। এই অভিযানের সময় ভারতীয় বাহিনী প্রায় ১০০ জন পাকিস্তানি সেনাকে নিকেশ করেছে।'
গত বছর ৭ মে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত অপারেশন সিঁদুর শুরু করে। ওই হামলায় ২৫ জন পর্যটক এবং একজন কাশ্মীরি ঘোড়ার চালক নিহত হন। ভারতের পাল্টা সামরিক হামলাগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) গভীরে অবস্থিত সন্ত্রাসবাদী শিবিরগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যার ফলে ১০০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়। পাকিস্তান পাল্টা ভারতের সামরিক ও বেসামরিক জায়গায় হামলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ভারত শক্তিশালী পাল্টা হামলা চালায়। তাদের একাধিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে। অন্তত ১১টি এয়ারবেসে গিয়ে পড়ে ভারতের ব্রহ্মস মিসাইল। যার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটি, মুরিদ, রফিকি, সুক্কুর, চাকলালা। যার ফলে ইসলামাবাদ ১০ মে যুদ্ধবিরতির জন্য নয়াদিল্লির সাথে যোগাযোগ করতে বাধ্য হয়।
‘অপারেশন সিঁদুর তিন বাহিনীর সমন্বয়ের একটি উদাহরণ’
সাংবাদিক সম্মেলনে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, 'অপারেশন সিঁদুর ছিল সুস্পষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশের অধীনে তিন-বাহিনীর সমন্বয়ের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ, যেখানে সশস্ত্র বাহিনীকে কাজ করা বা প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য সম্পূর্ণ অপারেশনাল স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। অপারেশন সিঁদুরের অধীনে সামরিক প্রতিক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যে কোনও দুঃসাহসিক কাজের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।' জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের পশ্চিম সীমান্তে পরিস্থিতি সংবেদনশীল থাকলেও ১০ মে থেকে তা দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে। তিনি বলেন, '২০২৫ সালে মোট ৩১ জন জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে। যাদের প্রায় ৬৫ শতাংশ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। এর মধ্যে পহেলগাঁও হামলার তিন হামলাকারীও ছিল, যাদের অপারেশন মহাদেবের সময় নির্মূল করা হয়। সক্রিয় স্থানীয় সন্ত্রাসবাদীর সংখ্যা এখন এক সংখ্যায় নেমে এসেছে এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে নতুন নিয়োগ প্রায় নেই বললেই চলে।'
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি
জেনারেল দ্বিবেদী আরও বলেন, 'সেনাবাহিনী সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসবাদী অবকাঠামোর ওপর নিবিড় নজর রাখছে। আমাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আটটি শিবির এখনও সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের বিপরীতে এবং ছয়টি নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে অবস্থিত। আমরা বিশ্বাস করি যে এই শিবিরগুলিতে কিছু উপস্থিতি বা প্রশিক্ষণের কার্যকলাপ রয়েছে, যে কারণে আমরা নিবিড় নজর রাখছি এবং তথ্য সংগ্রহ করছি। যদি আবার এই ধরনের কার্যকলাপ ধরা পড়ে, তবে আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেব।'