
দেশে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সৌধ হিসেবে ঘোষিত ৩,৬৮৮টি প্রাচীন মনুমেন্ট ও প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্রের মধ্যে ৪১৪টিতেই জবরদখলের ঘটনা ঘটেছে। এই সপ্তাহে কেন্দ্র রাজ্যসভাকে এই তথ্য জানিয়েছে। একটি লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী শ্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত জানিয়েছেন যে সরকার এই জবরদখলের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। শেখাওয়াত লিখিত জবাবে জানান যে, ১৯৫৮ সালের এএমএএসআর আইন (AMASR Act, 1958) অনুযায়ী সৌধগুলি রক্ষা ও উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
ভারতের ২৪টি রাজ্যের জাতীয় সৌধ ও সংরক্ষিত এলাকায় এই জবরদখল শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি জবরদখলের শিকার হয়েছে উত্তরপ্রদেশ (৭৮টি সাইট)। এরপরে রয়েছে তামিলনাড়ু (৭২টি) এবং কর্ণাটক (৬০টি)।মহারাষ্ট্র (৪৯টি) এবং রাজস্থান (৩০টি) উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।পশ্চিমবঙ্গে এ রকম ১৫টি সংরক্ষিত স্থান জবরদখলের শিকার হয়েছে।
প্রাচীন সৌধ ও প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্র ও অবশেষ আইন, ১৯৫৮ (AMASR Act, 1958) অনুযায়ী, কোনও সৌধকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তার জমি অধিগ্রহণ বা মালিকানা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI)-র মূল কাজ হল এই আইনের নিয়ম মেনে সুরক্ষিত সৌধগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভাল করা।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, যেখানেই জবরদখল বা বেআইনি কার্যকলাপ নজরে এসেছে, সেখানেই সংশ্লিষ্ট আইনের ধারায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সৌধগুলির সীমানা সুরক্ষিত করতে স্থানীয় রাজস্ব আধিকারিকদের সঙ্গে মিলে একটি যৌথ সমীক্ষা চালানো হয়। মন্ত্রী আরও বলেন, ASI ইতিমধ্যেই সুরক্ষিত সৌধ ও ক্ষেত্রগুলির সীমানার সমীক্ষা, জিও-রেফারেন্সিং এবং ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ করেছে। এই সমস্ত তথ্য ভুবন পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্য সরকার ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এই ডেটা রাজ্যের জমির রেকর্ডের সঙ্গে যুক্ত করার কাজও চলছে।