West Asia Conflict: ইরান থেকে আর্মেনিয়ায় পাড়ি ১৭০ ভারতীয়র, দেশে ফেরাতে তৎপর কেন্দ্র

Published : Mar 13, 2026, 06:13 PM IST
West Asia Conflict: ইরান থেকে আর্মেনিয়ায় পাড়ি ১৭০ ভারতীয়র, দেশে ফেরাতে তৎপর কেন্দ্র

সংক্ষিপ্ত

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে ১৭০ জন ভারতীয় ইরান থেকে স্থলপথে আর্মেনিয়ায় পৌঁছেছেন। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, অনেকেই দেশে ফিরেছেন, বাকিরাও ফিরবেন। তাঁদের নিরাপদে ফেরাতে ভারত সরকার সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ইরানের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে।

ইরান থেকে আর্মেনিয়ায় গেলেন ১৭০ জন ভারতীয়

পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের জেরে ইরান থেকে স্থলপথে সীমান্ত পেরিয়ে আর্মেনিয়ায় পৌঁছেছেন মোট ১৭০ জন ভারতীয়। শুক্রবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এই খবর নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ওই ভারতীয়দের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যেই দেশে ফিরে এসেছেন। বাকিরা আর্মেনিয়া থেকে বাণিজ্যিক বিমানে কয়েকদিনের মধ্যেই ভারতে ফিরবেন।

জয়সওয়াল বলেন, "আমি জানাতে চাই যে গত কয়েকদিনে, আজকের দিন ধরে, ১৭০ জন ভারতীয় ইরান থেকে স্থলপথে আর্মেনিয়ায় গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভারতে ফিরেও এসেছেন। বাকিরা আর্মেনিয়া থেকে ভারতের বিমান ধরে আগামী কয়েকদিনে ফিরবেন।"

এর আগে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছিল যে, যে সমস্ত ভারতীয় নাগরিক ইরান ছাড়তে চান, তাঁদের নিরাপদে ফেরার জন্য সবরকম সাহায্য করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থলপথে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানে পৌঁছতে সাহায্য করা, যেখান থেকে তাঁরা বাণিজ্যিক বিমানে ভারতে ফিরতে পারবেন।

পরিস্থিতি নজরে রাখছে বিদেশ মন্ত্রকের কন্ট্রোল রুম

জয়সওয়াল আরও জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয়দের সাহায্য করার জন্য গত ৪ মার্চ বিদেশ মন্ত্রকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছিল। সেখানে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯০০টি ফোন কল এবং ২০০টি ইমেল এসেছে।

তিনি যোগ করেন, "আমরা লক্ষ্য করেছি যে ফোন এবং ইমেলের মাধ্যমে জিজ্ঞাসার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। এর মানে হল, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা পরিবার নিয়ে মানুষের উদ্বেগ এখন কিছুটা কম।"

জয়সওয়াল উল্লেখ করেন যে, বিদেশ মন্ত্রক সাহায্যপ্রার্থীদের সঙ্গে ওই অঞ্চলের ভারতীয় দূতাবাসগুলির যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে রিয়েল-টাইম সহায়তা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে আটকে পড়া যাত্রীদের সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।

উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং শক্তি ও পণ্য বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘাত শেষ করতে আলোচনা ও কূটনীতির পথে হাঁটার জন্য ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে বলেন, "অঞ্চলের গুরুতর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইরানের প্রেসিডেন্ট ডঃ মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা হয়েছে। উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনহানি ও পরিকাঠামোর ক্ষতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। ভারতীয়দের নিরাপত্তা, পাশাপাশি পণ্য ও শক্তির অবাধ পরিবহন ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি এবং আলোচনা ও কূটনীতির আহ্বান জানিয়েছি।"

ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা জয়শঙ্করের

জয়সওয়াল আরও জানান যে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও ইরানের বিদেশমন্ত্রী সঈদ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং ব্রিকস (BRICS) গোষ্ঠীর মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

শুক্রবার এক্স-এ একটি পোস্টে জয়শঙ্কর বলেন, "গতকাল রাতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সঈদ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আবার কথা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং ব্রিকস সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।"

সংঘাত নিয়ে ইরানের অবস্থান

এদিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রক এক্স-এ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, আরাঘচি অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জয়শঙ্করকে জানিয়েছেন। তিনি আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার প্রয়োগের জন্য ইরান সরকার, জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় সংকল্পের উপর জোর দিয়েছেন।

আরাঘচি আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা করার জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার একটি ফোরাম হিসেবে ব্রিকস গোষ্ঠীর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা সমর্থনে ব্রিকসের একটি গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ইরানের বিদেশমন্ত্রী ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা করার জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বিকাশের একটি ফোরাম হিসাবে ব্রিকসের গুরুত্ব তুলে ধরে আরাঘচি এই মুহূর্তে আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা সমর্থনে এই প্রতিষ্ঠানের গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য বলে মনে করেন।"

সংঘাতের প্রেক্ষাপট

এই অঞ্চলে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হয়। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ এবং ইজরায়েলে থাকা ইজরায়েলি ও আমেরিকান সম্পত্তিতে হামলা চালায়। এর ফলে জলপথে যাতায়াত ব্যাহত হয় এবং আন্তর্জাতিক শক্তি বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ে। (ANI)

(শিরোনাম ছাড়া, এই প্রতিবেদনটি এশিয়ানেট নিউজএবল ইংরেজির কর্মীরা সম্পাদনা করেননি এবং এটি একটি সিন্ডিকেটেড ফিড থেকে প্রকাশিত।)

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

প্রত্যেক মহিলা পেয়ে গেলেন ১৫০০ টাকা করে, পরে ৩০০০ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর
LPG-র বিকল্প কেরোসিন, রান্নার জন্য চাহিদা তুঙ্গে হওয়ায় চড় চড় করে বাড়ছে দামও