
প্রজাতন্ত্র দিবসের ভাষণ ২০২৬: ২৬শে জানুয়ারি ভারতের ইতিহাসে সেই স্বর্ণালী দিন, যেদিন দেশ শুধু স্বাধীনতা নয়, নিজের নিয়ম নিজে তৈরি করার অধিকারও পেয়েছিল। প্রজাতন্ত্র দিবস আমাদের সংবিধান, গণতন্ত্র এবং নাগরিক কর্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। স্কুল থেকে কলেজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত এই দিনে প্রজাতন্ত্র দিবসের ভাষণের মতো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশপ্রেম, দায়িত্ব এবং রাষ্ট্র নির্মাণের বার্তা দেওয়া হয়। আপনিও যদি প্রজাতন্ত্র দিবস ২০২৬-এ একটি প্রভাবশালী ভাষণ দিতে চান, তাহলে এখানে জানুন কীভাবে ভাষণের সঠিক শুরু করবেন, কীভাবে একটি প্রভাবশালী সমাপ্তি দেবেন এবং স্কুল ছাত্রছাত্রী, কলেজ ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকদের জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুত করা ভাষণ পড়ুন।
আপনি এই লাইনগুলি দিয়ে শুরু করতে পারেন- “মাননীয় প্রধান অতিথি, শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ/অধ্যক্ষা মহোদয়/মহোদয়া, সম্মানিত শিক্ষকগণ এবং আমার প্রিয় বন্ধুদের আমার सादर নমস্কার। আজ আমরা সবাই এখানে আমাদের দেশের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের জন্য একত্রিত হয়েছি।”
শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ/অধ্যক্ষা মহোদয়/মহোদয়া, সম্মানিত শিক্ষকগণ এবং আমার প্রিয় বন্ধুরা,
আজকের দিনটি আমাদের দেশের জন্য গর্ব ও সম্মানের দিন। ২৬ জানুয়ারী ১৯৫০-এ, ভারত তার নিজস্ব সংবিধান গ্রহণ করে এবং একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়।
আমাদের সংবিধান আমাদের সমতা, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের অধিকার দেয়। আমাদের সংবিধানের প্রণেতা ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর আমাদের একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো দিয়েছেন, যার উপর ভিত্তি করে আমাদের দেশ আজ এগিয়ে চলেছে।
আজ ছাত্রছাত্রী হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো সৎ থাকা, শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকা এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা। আমাদের পড়াশোনা করে ভালো নাগরিক হতে হবে, যাতে আমরা ভারতকে বিশ্বের দরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারি।
আসুন, এই প্রজাতন্ত্র দিবসে আমরা শপথ নিই যে আমরা আমাদের দেশকে সম্মান করব এবং একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের সম্পূর্ণ অবদান রাখব।
জয় হিন্দ! জয় ভারত!
মাননীয় অতিথি, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ এবং আমার প্রিয় বন্ধুরা,
আজ আমরা ভারতের প্রজাতন্ত্র হয়ে ওঠার গৌরবময় যাত্রাকে স্মরণ করতে এখানে সমবেত হয়েছি। প্রজাতন্ত্র দিবস শুধু একটি জাতীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের অধিকার এবং কর্তব্যেরও প্রতীক।
ভারতীয় সংবিধান আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সমতার অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের চেতনা শেখায়। আজকের যুবসমাজই ভারতের ভবিষ্যৎ। প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং উদ্ভাবনের এই যুগে আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।
আমাদের শুধু নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বললেই চলবে না, নিজেদের কর্তব্যগুলোও বুঝতে হবে। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হয়েই আমরা দুর্নীতি, বৈষম্য এবং সামাজিক কুফল দূর করতে পারি।
এই প্রজাতন্ত্র দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞা করি যে আমরা আমাদের জ্ঞান ও শক্তিকে রাষ্ট্র গঠনে ব্যবহার করব।
বন্দে মাতরম! জয় হিন্দ!
মাননীয় প্রধান অতিথি, সম্মানিত অভিভাবকগণ, প্রিয় শিক্ষার্থী এবং আমার সহকর্মীবৃন্দ,
আজকের দিনটি আমাদের সংবিধানের শক্তি এবং গণতন্ত্রের আত্মার কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রজাতন্ত্র দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ভারতের আসল শক্তি তার নাগরিকরা।
একজন শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শুধু শিক্ষা দেওয়া নয়, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলাও। আজকের ছাত্রছাত্রীরাই আগামী দিনের নেতা, বিজ্ঞানী, ডাক্তার এবং শিক্ষক হবে।
সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি মৌলিক কর্তব্যগুলোও জীবনে গ্রহণ করা সময়ের দাবি। আমরা যদি আমাদের কর্তব্য পালন করি, তাহলে ভারত অবশ্যই বিশ্বগুরু হয়ে উঠবে।
আসুন, এই প্রজাতন্ত্র দিবসে আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী, শিক্ষিত এবং আত্মনির্ভর ভারত গড়ার শপথ নিই।
জয় হিন্দ! জয় ভারত!
আপনি শেষে এই লাইনগুলি বলতে পারেন- “এই কথা বলেই আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি এবং আপনাদের সকলকে প্রজাতন্ত্র দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
জয় হিন্দ! জয় ভারত!