World Record: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে তৈরি হল নতুন বিশ্বরেকর্ড। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে আড়াই লাখেরও বেশি গাছ লাগিয়ে গিনেস বুকে নাম তুলল বারাণসী পুরসভা। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশ নেন প্রায় ২০ হাজার সাধারণ মানুষ।  

রবিবার এক ঘণ্টারও কম সময়ে আড়াই লাখের বেশি গাছ লাগিয়ে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ল বারাণসী পুরসভা। একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষ। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষও এই কৃতিত্বকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

১ ঘণ্টায় আড়াই লক্ষ গাছ লাগিয়ে বিশ্বরেকর্ড

এই প্রকল্পের আওতায় মাত্র এক ঘণ্টায় ২.৫১ লক্ষ মিয়াকি চারা রোপণ করা হয়। এর আগে চিনের দখলে ছিল এই রেকর্ড, যেখানে এক ঘণ্টায় ১.৫৩ লক্ষ গাছ লাগানো হয়েছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ল ভারত। গাছগুলির সঠিক পরিচর্যা আর জল সংরক্ষণের জন্য ১০,৮২৭ মিটার লম্বা পাইপলাইন, ১০টি বোরওয়েল এবং ৩৬০টি রেন গান সিস্টেম বসানো হয়েছে। পুরো জঙ্গলটি জাপানি উদ্ভিদবিদ আকিরা মিয়াকির তৈরি 'মিয়াকি' পদ্ধতিতে তৈরি করা হচ্ছে। এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হল, গাছ সাধারণের চেয়ে অনেক দ্রুত বাড়ে এবং মাত্র দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়।

আরবান ফরেস্টের আকর্ষণ

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডোমরিতে তৈরি এই 'আরবান ফরেস্ট'-এর গঠনও বেশ আকর্ষণীয়। ৩৫০ বিঘা জমির এই এলাকাটিকে ৬০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। কাশীর বিখ্যাত গঙ্গা ঘাটগুলির নামে— যেমন দশাশ্বমেধ, মণিকর্ণিকা, কেদার, ললিতা, মানমন্দির— এই সেক্টরগুলির নামকরণ করা হয়েছে।

কী কী গাছ লাগানো হয়েছে?

প্রতিটি সেক্টরে প্রায় ৪,০০০ গাছ লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে শিশু, অর্জুন, সেগুন, বাঁশের মতো ২৭টি দেশীয় প্রজাতির পাশাপাশি আম, পেয়ারা, পেঁপের মতো ফলের গাছ এবং অশ্বগন্ধা, শতাবরী, গুলঞ্চের মতো ঔষধি গাছকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক বছরে এই এলাকাটি একটি 'অক্সিজেন ব্যাংক' হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আড়াই লাখ চারাগাছ ছাড়াও, আরও ১০,০০০ টিম্বার গাছ এবং ৪০,০০০ ফলের গাছ লাগানো হবে। এছাড়াও এই প্রকল্পে থাকছে: চার কিলোমিটার হাঁটার পথ, মেডিটেশন ও যোগা প্লাজা, চার হেক্টরের একটি ফুলের পার্ক, দুই হেক্টরের একটি হার্বাল পার্ক, শিশুদের খেলার জায়গা এবং একটি ওপেন জিম প্লাজা।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক অজিত কুমার চতুর্বেদী। মেয়র অশোক কুমার তিওয়ারি বলেন, এই সাফল্য কাশীর আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং আধুনিক উন্নয়নের এক মেলবন্ধন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুপ্রেরণা এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশনায় এই কাজ সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান। মেয়র এই কৃতিত্বকে 'কাশীর কপালে গর্বের তিলক' বলে বর্ণনা করেছেন।