
খুন করে দেহ গুম করে দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছিল, সেই মহিলাকেই প্রায় ২০ দিন পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করল পুলিশ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের সুরাটে। ঝাড়খণ্ডের ওই মহিলার Instagram অ্যাকাউন্টে আপলোড করা ভিডিও এবং মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে তাঁর সন্ধান পায় পুলিশ। পরে তাঁকে নিরাপদে উদ্ধার করে ঝাড়খণ্ড পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঝাড়খণ্ডের রাঁচি জেলার খলারি থানা এলাকার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টান্ডওয়া এলাকার বাসিন্দা ছট্টু গোব তাঁর ৩৬ বছরের মেয়ে বিনী দেবী ওরফে বীণা দেবীকে খুন করা হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিনীর স্বামী সামু মাহতো, অনিকেত যাদব-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়।
অভিযোগকারী বাবার দাবি, ২০১০ সালে খলারি থানা এলাকার চুরি দক্ষিণী বস্তির বাসিন্দা সামু মাহতোর সঙ্গে বিয়ে হয় বিনীর। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মেয়েকে তাঁর স্বামী মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন বাবা। এই নিয়ে গত ৩০ অগস্ট খলারি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। বিনীর বাবার অভিযোগ ছিল, ২৪ অগস্ট সামু মাহতো তাঁর সহযোগী অনিকেত যাদবকে সঙ্গে নিয়ে মেয়েকে খুন করেন এবং দেহ কোথাও লুকিয়ে ফেলেন। এরপর খলারি থানায় BNS-এর ৮৫, ১০৩, ২৩৮ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ বিনীর Instagram অ্যাকাউন্টে আপলোড করা কয়েকটি ভিডিও দেখতে পায়। সেই ভিডিও থেকেই তাঁর সুরাটে থাকার বিষয়ে প্রাথমিক সূত্র মেলে। পরে তাঁর মোবাইল ফোন চালু হলে লোকেশনও সুরাটের সচিন GIDC থানা এলাকায় পাওয়া যায়। ১৫ সেপ্টেম্বর খলারি থানার এক সাব-ইন্সপেক্টর সচিন GIDC থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। FIR-এর বিষয়টি জানিয়ে মহিলাকে খুঁজে বের করার জন্য সাহায্য চাওয়া হয়। এরপর স্থানীয় সূত্রে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে সুরাট পুলিশ। শেষ পর্যন্ত সচিন GIDC এলাকা থেকেই বিনী দেবীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
সুরাট পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিনী জানিয়েছেন, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কথিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। সেই কারণেই কাউকে না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে সুরাটে চলে আসেন তিনি। প্রায় ২০ দিন আগে সুরাটে এসে শ্রমিকের কাজ করে জীবনযাপন করছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি। সুরাটের ACP সুনীল তাড়ে জানিয়েছেন, মহিলাকে নিরাপদে উদ্ধারের পর ঝাড়খণ্ড পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে তাঁকে রাঁচি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন মহিলার বয়ানের ভিত্তিতে গোটা ঘটনার তদন্ত করবে ঝাড়খণ্ড পুলিশ।