৩৫ বছর আগে ১০০০ টাকা ধার, পুরনো বন্ধুকে খুঁজে বের করে ২৫,০০০ টাকা দিলেন এই ব্যক্তি

Published : Jul 12, 2026, 05:21 PM IST
kerala man repaid a colleague rs 25000 for a rs 1000 loan taken 35 years ago

সংক্ষিপ্ত

সৌদি আরবে এক বন্ধুর কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা ধার নেওয়ার তিন দশকেরও বেশি সময় পর কেরালার এক ব্যক্তি কেবল অস্পষ্ট স্মৃতি আর বহুদিনের পুরনো এক প্রতিজ্ঞা পূরণের তাগিদ নিয়ে সেই বন্ধুকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন। কোনও ফোন নম্বর, ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্য ছাড়াই ইসমাইল তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী এডলা লাচান্নার সন্ধানে নামেন, যার সঙ্গে তাঁর বহু বছর দেখা হয়নি।

সৌদি আরবে এক বন্ধুর কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা ধার নেওয়ার তিন দশকেরও বেশি সময় পর কেরালার এক ব্যক্তি কেবল অস্পষ্ট স্মৃতি আর বহুদিনের পুরনো এক প্রতিজ্ঞা পূরণের তাগিদ নিয়ে সেই বন্ধুকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন। কোনও ফোন নম্বর, ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্য ছাড়াই ইসমাইল তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী এডলা লাচান্নার সন্ধানে নামেন, যার সঙ্গে তাঁর বহু বছর দেখা হয়নি। ৯ জুলাই তাঁর এই অনুসন্ধান তাঁকে তেলঙ্গনার জাগতিয়াল জেলার ধর্মপুরীতে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি অবশেষে তাঁর বন্ধুর খোঁজ পান এবং কয়েক দশক ধরে মনে গেঁথে থাকা সেই ঋণ পরিশোধ করেন।

সৌদি আরবে বন্ধুত্ব

১৯৯১ সালে সৌদি আরবের আবকাইক (Abqaiq) এলাকায় কাজ করার সময় ইসমাইল ও লাচান্নার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাঁরা আরও তিনজন প্রবাসী কর্মীর সঙ্গে একই আবাসনে প্রায় পাঁচ বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করেছিলেন। সেই সময়ে ইসমাইল লাচান্নার কাছ থেকে ১২০ সৌদি রিয়াল ধার নিয়েছিলেন। তখন ওই অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ১,০০০ ভারতীয় টাকার সমান। তিনি কথা দিয়েছিলেন যে, সামর্থ্য হলেই তিনি টাকাটা ফেরত দেবেন। এর কিছুকাল পরেই লাচান্না ভারতে ফিরে আসেন। তখন মোবাইল ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া না থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

টাকার অঙ্কটা খুব বড় না হলেও, ইসমাইল বিষয়টি কখনই ভুলে যাননি। সম্প্রতি তিনি তাঁর পুরনো বন্ধুকে খুঁজে বের করে টাকাটা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কাজটি সহজ ছিল না। লাচান্নার ফোন নম্বর, ঠিকানা বা যোগাযোগের অন্য কোনও তথ্য তাঁর কাছে ছিল না। তাঁর কেবল এটুকুই মনে ছিল যে, লাচান্নার বাড়ি ধর্মপুরীতে। অনলাইনে খোঁজাখুঁজি এবং সেই একটি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইসমাইল শহরটি খুঁজে বের করেন এবং সেখানে যান। স্থানীয় মানুষের সহায়তায় তিনি অবশেষে তাঁর প্রাক্তন সহকর্মীর সন্ধান পান। লাচান্নার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের পর ইসমাইল তাঁর পরিবারের হাতে ২৫,০০০ টাকা তুলে দেন।

তখন লাচান্না বিদেশে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা হয়। লাচান্না জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে দেওয়া মাত্র ১২০ সৌদি রিয়াল ঋণের বিপরীতে ইসমাইল যখন তাঁকে ২৫,০০০ টাকা ফেরত দিলেন, তখন তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। ইসমাইলকে একজন সৎ ও ভালো মনের মানুষ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এই কাজটি তাঁদের বন্ধুত্বের গভীরতারই বহিঃপ্রকাশ। এত বছর পরও নিজের কথা রাখার জন্য তিনি ইসমাইলকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, "আমরা দুজনেই সৌদি আরবের আবকাইক (Abqaiq) শহরে থাকতাম। সন্ধ্যায় আমরা তাঁর ঘরে গিয়ে একসঙ্গে রান্না করতাম ও খেতাম। এভাবেই আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে আমি তাঁকে সৌদি আরবের মুদ্রা ১২০ রিয়াল দিয়েছিলাম। তাঁকে সেই টাকা ধার দেওয়ার পর প্রায় ৩৫ বছর কেটে গেছে। ১২০ রিয়ালের বিপরীতে তিনি কীভাবে ২৫,০০০ টাকার হিসাব করলেন, তা আমার জানা নেই। তিনি অত্যন্ত সৎ ও ভালো মানুষ। তাই তিনি আমাকে বেশি টাকা দিয়েছেন। এটি মূলত আমাদের বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন।"

তিনি আরও বলেন, "টাকার অঙ্কের মধ্যে তিনি সুদ ধরেছিলেন কি না, তা আমি জানি না। সেই সময়ে ১২০ রিয়ালের মান ছিল প্রায় ১,০০০ টাকার সমান। ১৯৯১ সালে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ১২০ রিয়াল পাঠালে ভারতে প্রায় ১,০০০ টাকা পাওয়া যেত। যেহেতু অনেক বছর পেরিয়ে গেছে, তাই আমার ধারণা টাকা ফেরত দেওয়ার আগে তিনি হয়তো এর সঙ্গে সুদ যোগ করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।"

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Voter List: ফর্ম ৬-এ নতুন বিভাগ! বাবা-মায়ের SIR তথ্য না দিলে কি ভোটার তালিকায় নাম তোলা যাবে না?
Dilip Ghosh: সুখেন্দু-সুস্মিতাদের কেন রাজ্যসভার টিকিট দিল বিজেপি? ৩টি ব্যাখ্যা দিলেন দিলীপ ঘোষ