- Home
- West Bengal
- Dilip Ghosh: সুখেন্দু-সুস্মিতাদের কেন রাজ্যসভার টিকিট দিল বিজেপি? ৩টি ব্যাখ্যা দিলেন দিলীপ ঘোষ
Dilip Ghosh: সুখেন্দু-সুস্মিতাদের কেন রাজ্যসভার টিকিট দিল বিজেপি? ৩টি ব্যাখ্যা দিলেন দিলীপ ঘোষ
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েই রাজ্যসভার টিকিট পেলেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক। বিতর্কের মাঝে মুখ খুললেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, জানালেন আসল কারণ। তুলে আনলেন তিনটি কারণ।

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি, তারপরই রাজ্যসভার টিকিট
বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিন প্রাক্তন সাংসদ— সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক। দুপুরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই সন্ধ্যের মধ্যেই তাদের রাজ্য সভার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়। যা নিয়ে দলের বাইরে তো বটেই দলের অন্দরেও কথা উঠেছে। শুরু হয়েছে আলোচনা আর পর্যালোচনা। এই অবস্থায় দলের ও বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে আসরে নামলের রাজ্যের বিজেপি নেতা তথা পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

প্রশ্নের মুখে শমীকের ‘তৃণমূলীকরণ ঠেকানো’র প্রতিশ্রুতি
বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর শমীক ভট্টাচার্য শুরু থেকেই বলে এসেছিলেন, দলে ‘তৃণমূলীকরণ’ হতে দেবেন না। কিন্তু পালা বদলের পরই দেখা যাচ্ছে অন্য ছবি। একের পর এক তৃণমূল নেতা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর হাত ধরেই গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকরা।
বিতর্কের মাঝে মুখ খুললেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ
সমালোচনা তুঙ্গে ওঠার মধ্যেই এই ইস্যুতে প্রকাশ্যে মন্তব্য করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজের ব্যাখ্যা দেন। যা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে দিলীপের কথায় স্পষ্ট এই দলবদলে পুরোপুরি সায় রয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।
সিদ্ধান্ত আসলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের, দাবি রাজনৈতিক মহলের
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই তিনজনকে টিকিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজ্য স্তরে নেওয়া হয়নি। বরং কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের অনুমোদনেই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্যেসভায় আসন বা সদস্য বাড়ানোই বিজেপির এখন প্রধান লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যে অবিচল থেকেই তৃণমূলের দলবদলুদের টিকিট দিতে দেরি করেনি গেরুয়া শিবির।
‘মোদিজির জন্য কাজ করতে চান’— দিলীপের সাফাই
দিলীপ ঘোষ জানান, তিনজনই আগে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন এবং ফের সাংসদ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলেই তাঁদের এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু একটা নয়, বিজেপি নেতা দলবদলুদের নিয়ে আরও একাধিক যুক্তি দিয়েছেন।
‘অপরাধমূলক মামলা নেই’, যুক্তি সাজালেন মন্ত্রী
তিন প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই বলে স্পষ্ট করে দেন দিলীপ। তাঁর কথায়, অতীতে যা হয়েছে তা অতীতই, এখন তাঁদের নতুন করে কাজের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যে অবশ্য প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি যাদের নামে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই তাদের জন্য কি গেরুয়া শিবিরের দরজা খোলা?
কর্মীদের বাড়তি ভাবনার দরকার নেই, বার্তা দিলীপের
তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা নেত্রীদের যেভাবে বিজেপি দলে নিচ্ছে তাতে দলের নিচুতলার কর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। তাদের উদ্দেশ্যেও দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট বার্তা দেন— এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশি ভাবনাচিন্তার দরকার নেই, বিষয়টা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই বুঝে নেবে।
রাজ্যসভাতেও লোকবল বাড়ানোর প্রয়োজন, ইঙ্গিত মন্ত্রীর
দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে উঠে আসে, বিজেপিরও রাজ্যসভায় পর্যাপ্ত প্রতিনিধি দরকার। সেই প্রেক্ষিতেই অভিজ্ঞ প্রাক্তন সাংসদদের বেছে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর ব্যাখ্যা। বিজেপি একাধিক বিল লোকসভাতে পাশ করাতে পারলেও রাজ্যসভায় পারে না। আর এবার সদস্য বাড়লে বিল পাশ করিয়ে নিতে কোনও সমস্যা হবে না। সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।
তৃণমূল ছাড়ার নেপথ্যে ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবি
২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পরই দলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁকে অনুসরণ করে একই পথে হাঁটেন সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক ও কোয়েল মল্লিক। এই ঘটনার মাস খানেকের মধ্যেই তারা বিজেপিতে যোগ দান করেন।
২৪ জুলাই ভোট, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের সম্ভাবনা
আগামী ২৪ জুলাই রাজ্যসভা নির্বাচন। সংখ্যাতত্ত্বের হিসেবে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় প্রায় নিশ্চিত। ঘাসফুল প্রতীকে জেতা এই তিনজনই এবার যাচ্ছেন পদ্মপ্রতীকে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.

