
Kerala Police: আইফোন (iPhone), বাইক (Bike) কেনার জন্য টাকা জোগাড় হচ্ছিল না। কিন্তু পছন্দের জিনিস পেতেই হবে। তার জন্য এক আত্মীয়কে খুনের পরিকল্পনা করল কেরলের ১৩ বছর বয়সি মেয়ে। তার ১৭ বছর বয়সি প্রেমিক ও দুই বন্ধুর সঙ্গে মিলে খুনের চক্রান্ত করে। খুনের সময় অবশ্য ঘটনাস্থলে ছিল না এই কিশোরী। কিন্তু তার প্রেমিক ভিডিও কলে খুনের ঘটনা দেখায়। মৃত ব্যক্তির বাড়িতে কোথায় সোনার গয়না রাখা আছে, তা প্রেমিককে বলে দেয় অভিযুক্ত কিশোরী। সেই সোনা চুরি করার পর কিছুটা বিক্রিও করে দেয় নাবালক অপরাধীরা। তবে শেষরক্ষা হল না। চার অভিযুক্তকেই হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৬ ও ১৭ বছরের দুই কিশোরকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের আওতায় আনা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গুরুতর অপরাধে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোরের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে কেরলের আলাপ্পুঝায় (Alappuzha)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুন হওয়া ব্যক্তির নাম শিবনকুট্টি চেট্টিয়ার (Sivankutty Chettiyar)। অভিযুক্ত কিশোরী তার প্রেমিককে বলে, শিবনকুট্টির বাড়িতে অনেক সোনা আছে। সেই সোনা চুরি করে বিক্রি করতে পারলে অনেক টাকা পাওয়া যাবে। চক্রান্ত অনুযায়ী, শনিবার সন্ধেবেলা যখন শিবনকুট্টি একা বাড়িতে ছিলেন, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে অন্য কোথাও গিয়েছিলেন, সেই সময় বাড়ির পিছনের দিকে ভেন্টিলেটরের কাছে থাকা একটি সরু জায়গা দিয়ে ঢোকে তিন কিশোর। শিবনকুট্টির সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। তিন কিশোর তাঁকে মাটিতে ফেলে হাত-পা বেঁধে দেয়। এরপর তাঁর গলায় শক্ত করে কাপড় পেঁচিয়ে খুন করা হয়। খুনের পর তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার জন্য অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে লঙ্কার গুঁড়ো ছড়িয়ে দেয়। তদন্তকারীদের ধারণা, সিনেমা বা এ ধরনের দৃশ্য দেখে তারা এই পরিকল্পনা করে। তদন্তে নেমে শুরুতে পুলিশ অনুমান করেছিল, ডাকাতির জন্য খুন। কিন্তু আত্মীয়দের জেরা করার সময় অভিযুক্ত কিশোরীর বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর তাকে আরও জেরা করা হয়। তখনই খুনের কথা জানা যায়।
আলাপ্পুঝার পুলিশ সুপার বিষ্ণু প্রদীপ জানিয়েছেন, ‘সোনা হাতানোর জন্য চুরির পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। চুরি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে অভিযুক্ত নাবালিকার জন্য একটি আইফোন এবং তার প্রেমিক ও বন্ধুদের জন্য একটি বাইক কেনার পরিকল্পনা ছিল।’ তবে ওই কিশোরী পুলিশকে জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তি তাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করেছিলেন এবং সেই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যও তার ক্ষোভ ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযোগ আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে সোনা চুরিই হত্যাকাণ্ডের প্রধান উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। চুরি করা সোনার কিছু অংশ কোল্লাম জেলায় বিক্রি করে ওই নাবালিকা ১৬ হাজার টাকা পায়। পরে পুলিশ পাঁচ লক্ষ ৬১ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের সোনা উদ্ধার করেছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।