Hope Island Kakinada: অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার কাছে বঙ্গোপসাগরের ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি ছোট্ট গ্রাম। চারদিকে অথৈ জল। এই সমুদ্রের মাঝে থাকা গ্রামের মানুষজন কীভাবে বেঁচে আছেন? কেমন কাটে তাঁদের রোজকার জীবন?
অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরের বুকে রয়েছে একটি দ্বীপ। নাম হোপ আইল্যান্ড। আর এখানেই রয়েছে পুত্রয়া পাকালু নামের একটি গ্রাম। চারদিকে সমুদ্রের জল, আর মাঝখানে বালুকাময় জমিতে তৈরি হয়েছে ঘরবাড়ি। গোদাবরী নদী থেকে ভেসে আসা বালি জমেই এই দ্বীপ তৈরি হয়েছে। প্রায় ১৬ কিলোমিটার লম্বা এই দ্বীপটি দূর থেকে দেখতে দারুণ সুন্দর লাগে। কিন্তু এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে স্থানীয় মানুষদের কঠিন জীবন সংগ্রাম। ২০২২ সালের একটি রিপোর্ট বলছে, এখানে ১১৮টি পরিবার বসবাস করে। সমুদ্রের মাঝখানে থাকায় এদের জীবনযাত্রা বাকিদের চেয়ে একেবারেই আলাদা।
23
কীভাবে বাঁচে এই মানুষগুলো?
হোপ আইল্যান্ডের পুত্রয়া পাকালু গ্রামের জেলে পরিবারগুলো মূলত মাছ ধরার ওপরই নির্ভরশীল। তারা সমুদ্র থেকে মাছ ধরে কাকিনাড়া উপকূলে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। চাল, সবজি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে হলেও তাদের নৌকায় করেই যাতায়াত করতে হয়। আবহাওয়া খারাপ থাকলে এই যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সমুদ্রে বড় ঢেউ থাকলে বাইরে বেরোনো বেশ বিপজ্জনক। তাই এখানকার মানুষদের রোজকার জীবন পুরোপুরি সমুদ্রের মেজাজের ওপর নির্ভর করে। জালে ভালো মাছ উঠলেই পরিবারগুলোর হাতে দু'পয়সা আসে।
33
সবকিছুই এখানে কঠিন
হোপ আইল্যান্ডে থাকা পরিবারগুলোর রোজকার প্রয়োজন মেটানো বেশ কঠিন। পানীয় জলের অভাব, পড়াশোনা এবং চিকিৎসার মতো সমস্যাগুলো নিয়ে আগেও খবর হয়েছে। বাচ্চাদের পড়াশোনা করতে হলে উপকূলের দিকে যেতে হয়। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পৌঁছানোও মুশকিল। নৌকায় চেপে কাকিনাড়ায় যেতে হয়। অন্যদিকে, এই দ্বীপটি অলিভ রিডলে কচ্ছপদের ডিম পাড়ার অন্যতম প্রধান জায়গা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা হোপ আইল্যান্ড দেখতে অনেকেরই ইচ্ছে হতে পারে। তবে এখানকার মানুষদের জন্য ভালো পানীয় জল, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করা খুব জরুরি। সমুদ্রের মাঝখানের এই ছোট্ট দ্বীপে মানুষগুলো অনেক কষ্ট সহ্য করেই জীবন কাটাচ্ছেন।