Mamata Banerjee: জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে উত্তপ্ত রাজধানীর রাজপথ। সেই আগুনের রেশকে আরও তীব্র করতে এবার দিল্লির পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেখা করতে পারেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মুর সঙ্গে। তার আগে কী বললেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী? জানুন বিশদে।।
ক্রমশ চড়ছে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন। রাজধানীর রাজপথে নেমেছে কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিজেপি বিরোধী দলগুলি। তাদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়াতে বৃহস্পতিবারই বিকেলে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে কারচুপি নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এই বিষয়ে দ্রৌপদি মুর্মুর সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
26
জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন নিয়ে কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
তিনি বলেন, ‘’প্রথমে আমি ঠিক করেছিলাম যে অনুষ্ঠানে যাব না। কিন্তু যেহেতু আমার নাম দেওয়া হয়েছে এবং আয়োজকরা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে অনুরোধ করেছেন, তাই মনে হল যাওয়া উচিত। বিশেষ করে যখন ইতিমধ্যেই একটা আন্দোলন চলছে, তখন এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমাদের অনুপস্থিত থাকা ঠিক হবে না। এখন উৎসবের মরশুম চলছে, সবাই পুজোর আনন্দে ব্যস্ত। তা সত্ত্বেও আমার মনে হয়েছে, এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ মানুষ যখন কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আওয়াজ তুলছেন, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা যদি পাশে না থাকি, সেটা ঠিক নয়।''
36
যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ আন্দোলনে যোগ দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতা বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘’১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে যে প্রতিবাদ কর্মসূচি রয়েছে, সেখানে আমি যোগ দিতে পারি, কিন্তু এই মুহূর্তে সেটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে তাঁদের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা আমাদের সমর্থন জানিয়েছি। ভবিষ্যতে আমরা সেখানে অংশ নেব কি না, সেই সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।''
‘’রাহুল গান্ধী বিরোধী দলনেতা, গোটা দেশজুড়েই প্রতিবাদ হচ্ছে। কিন্তু এখানে যা ঘটেছে, সেটাও সমানভাবে উদ্বেগের। আমি দেখেছি, গোটা দেশেই অনেক অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যেকেরই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, সেটা অন্যায়। প্রত্যেক বাড়িতেই মহিলা, মা এবং সন্তান রয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তাঁদের সম্মান ও নিরাপত্তা প্রাপ্য। কোনও রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করা বা তাঁদের ভয় দেখানো যায় না।''
56
ভোটলুঠ নিয়ে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আমরা রাজনৈতিক কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের উপর হামলার ঘটনা দেখেছি। কালিম্পং, চন্দননগর, রায়গঞ্জ-সহ বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেছে। এমনকী কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র এবং একজন প্রবীণ আইনজীবীর বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাড়িতে ঢুকে পরিবারকে ভয় দেখাচ্ছে। এটা কী মেনে নেওয়া যায়? আগে কখনও এমন ঘটনা দেখেছেন?
66
রাষ্ট্রপতির কাছে যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
‘’আমি বাংলার জন্য এবং গোটা দেশের মানুষের জন্য দিল্লি যাচ্ছি। আমি মাননীয় রাষ্ট্রপতির কাছেও যাওয়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের স্বাক্ষর ও সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা করব। কারণ এই সমস্যাগুলি কোনও একজন ব্যক্তি বা একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক নেতাদের এই বিষয়গুলির দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। এমন নির্বাচন আগে কখনও হয়নি। ভোটের আগেই কেউ কীভাবে বলে দিতে পারে যে কত ভোটে জিতবে? এতে পরিকল্পিতভাবে ভোট দেওয়া, জাল ভোট, রিগিং এবং ভোট লুঠের বিষয় স্পষ্ট। এভাবে বেশিদিন চলতে পারে না। ভোট লুঠ করে কেউ চিরকাল ক্ষমতায় থাকতে পারে না।''