
মঙ্গলবার লোকসভায় ধ্বনী ভোটে পাশ হয়ে গেল বহু বিতর্কিত রূপান্তরকামী ব্যক্তি (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল ২০২৬। কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার এই বিলটি পেশ করেন। এই বিলটি ২০১৯ সালের মূল আইনের সংশোধন করছে। সবচেয়ে বড় বদল আনা হয়েছে 'রূপান্তরকামী ব্যক্তি'-র সংজ্ঞায়। নতুন সংজ্ঞা থেকে বহু মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিলটির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া, যারা সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন হন এবং তাদের সুরক্ষার জন্য একটি ব্যবস্থা তৈরি করা। সরকারের নীতি হলো শুধুমাত্র তাদেরই সুরক্ষা দেওয়া, যারা জৈবিক কারণে এবং নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রবলভাবে সামাজিক বঞ্চনার শিকার।
বিল অনুযায়ী, এখন থেকে 'রূপান্তরকামী ব্যক্তি' হিসেবে গণ্য হবেন— 'কিন্নর, হিজড়া, আরাবাণী এবং জোগতা'-র মতো সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ব্যক্তিরা, অথবা 'ইউনাক' (eunuch), বা জন্মগতভাবে ইন্টারসেক্স ভ্যারিয়েশন থাকা ব্যক্তিরা। এছাড়া জন্ম থেকেই পুরুষ বা মহিলার শারীরিক গঠনের তুলনায় যাদের যৌন বৈশিষ্ট্যে (যেমন— প্রাইমারি সেক্সুয়াল ক্যারেক্টারিস্টিকস, বাহ্যিক যৌনাঙ্গ, ক্রোমোজোমাল প্যাটার্ন, গোনাডাল ডেভেলপমেন্ট, অভ্যন্তরীণ হরমোন উৎপাদন) পার্থক্য রয়েছে, তারাও এই সংজ্ঞার আওতায় পড়বেন।
বিলে আরও বলা হয়েছে, যদি কাউকে জোর করে লিঙ্গ পরিচয় গ্রহণে বাধ্য করা হয়, তবে তিনিও রূপান্তরকামী হিসেবে গণ্য হবেন। কিন্তু, যারা নিজেদের 'আত্মপরিচয়'-এর ভিত্তিতে রূপান্তরকামী মনে করেন, তাদের এই সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ, সংশোধনী বিলের ৩ নম্বর ধারা দিয়ে ২০১৯ সালের আইনের ৪(২) ধারাটি বাতিল করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জেলাশাসক (District Magistrate) পরিচয়পত্র দেওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের সুপারিশ খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনে অন্য চিকিৎসকদের সাহায্যও নিতে পারবেন।
এই বিলটি প্রথম লোকসভায় পেশ করা হয়েছিল ১৪ মার্চ। তারপর থেকেই দেশজুড়ে রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।
এর আগে, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এই বিলটিকে স্ট্যান্ডিং কমিটিতে না পাঠানোয় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে বিলটি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানো হচ্ছে না। রূপান্তরকামী সম্প্রদায় মনে করছে, এই বিল তাদের পরিচয়কেই মুছে দেবে। তাই তাদের সঙ্গে আলোচনা করাটা খুব জরুরি ছিল। তাদের মতামত নিয়েই বিলটি পাশ করা উচিত ছিল। এটা খুবই অন্যায় যে গোটা একটা সম্প্রদায় মনে করছে, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হলো না এবং তাদের নিয়েই এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেল। আমার মনে হয়, সরকারের উচিত ছিল তাদের কথা শোনা এবং বিলটি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানো।" বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতবি রাখা হয়েছে।