
মেজর ঋষভ সিং সাম্বিয়াল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর এডিসি (ADC) হিসেবে কাজ করতেন। শুধু তাঁর হ্যান্ডসাম লুক নয়, কাজের প্রতি নিষ্ঠা আর ভদ্র আচরণের জন্য লাখ লাখ মানুষের কাছে তিনি 'ন্যাশনাল ক্রাশ' হয়ে উঠেছিলেন। তিনি হঠাৎ করেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে ইন্টারনেট দুনিয়ায় রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন। মাত্র ১২ বছর চাকরি করার পর তাঁর এই আগাম অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেককেই অবাক করেছে। অবসরের সময় তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে খোদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার বেশ কিছু ছবিও শেয়ার করেছিলেন। এমন উজ্জ্বল কেরিয়ার ছেড়ে তিনি কেন হঠাৎ সরে দাঁড়ালেন, তা নিয়ে ভক্তদের মনে প্রশ্নের শেষ ছিল না। শেষমেশ ঋষভ নিজেই লাইভে এসে লাখ লাখ মানুষের সেই কৌতূহল মেটালেন।
অবসর নেওয়ার পর থেকেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মারাত্মক ভাইরাল। কোটি কোটি তরুণীর ক্রাশ এই হ্যান্ডসাম ঋষভ। আর সেই কারণেই তাঁর ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। তবে সম্প্রতি প্রাক্তন এই মেজরের ইনস্টাগ্রামের পেইড সাবস্ক্রিপশন (Paid Instagram) নিয়ে অনলাইনে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৫০০-র বেশি মানুষ তাঁর এক্সক্লুসিভ পোস্ট দেখার জন্য সাবস্ক্রাইব করেছেন। আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য মাসে ১৯৯ টাকা আর অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য ১৮০ টাকা চার্জ রাখা হয়েছে। আর এই পেইড সাবস্ক্রিপশন থেকেই ঋষভ মাসে প্রায় তিন লাখ টাকা পকেটে পুরছেন।
প্রতিদিন যেভাবে তাঁর পেইড সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা বাড়ছে, তা দেখে অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীই অবাক। টাকা দিয়ে তাঁর ইনস্টাগ্রামে সাবস্ক্রাইব করলে একটি বিশেষ ব্যাজ পাওয়া যায়, পাশাপাশি সোশ্যাল চ্যানেলগুলোতেও অ্যাক্সেস মেলে। সাবস্ক্রাইবারদের জন্য তিনি "আস্ক মি এনিথিং" (Ask Me Anything)-এর মতো সেশনও করছেন। আপাতত ইনস্টাগ্রামে পেইড সাবস্ক্রাইবারদের জন্য তাঁর পাঁচটি এক্সক্লুসিভ স্টোরি এবং একটি রিলস রয়েছে।
মেজর ঋষভ সিং সাম্বিয়াল জানিয়েছেন, তাঁর এই চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্তের পিছনে একান্তই ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কারণ রয়েছে। কাজের জায়গায় কোনওরকম অসন্তোষ থেকে যে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেননি, সেটাও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি ছোটবেলা থেকেই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করার স্বপ্ন দেখতাম। কেরিয়ারের এত তাড়াতাড়ি যে ইউনিফর্ম খুলে রাখতে হবে, সেটা আমি কোনওদিন ভাবিনি। তবে কিছু পরিস্থিতি মানুষের জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। আমার জীবনেও ঠিক সেটাই হয়েছে।"
ঋষভ আরও জানান, ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার জন্যই তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে অনেক চিন্তাভাবনা করেই তিনি এই বড় পদক্ষেপ করেছেন। তাঁর অবসর নিয়ে চলা জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমার চাকরি ছাড়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক গুজব ছড়াচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন আমি নাকি বিয়ে করার জন্য চাকরি ছেড়েছি। কিন্তু এর কোনওটাই সত্যি নয়, আপাতত আমার বিয়ের কোনও প্ল্যান নেই।" সব মিলিয়ে, চাকরি ছাড়ার আসল কারণটা খোলসা না করলেও, জীবনের পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে তিনি খুব তাড়াতাড়িই বিস্তারিত জানাবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি এও জানিয়েছেন, সক্রিয় চাকরিতে না থাকলেও দেশের সেবা করার ইচ্ছা তাঁর কোনওদিন শেষ হবে না।