Mamata Banerjee Supreme Court: রাজনীতির ময়দানে কি এটাকে স্লগ ওভারে খেলা ঘোরানো বলা চলে। কারণ, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আর কয়েক মাস বাকি (mamata banerjee supreme court)। ঠিক তার আগে দিল্লিতে কার্যত, অগ্নিকন্যা রূপে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক সমীকরণের নিরিখে দেখতে গেলে তাৎপর্যপূর্ণ (supreme court of india)।
সুপ্রিম কোর্টে বুধবার, এসআইআর মামলায় দেশের প্রধান বিচারপতির এজলাসে যেভাবে সওয়াল করলেন তৃণমূল সূপ্রিমো, সর্বোপরি নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীর তরফে দেওয়া যুক্তির পাল্টা যুক্তি যেভাবে তুলে ধরলেন, তা দেখে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছে, এসআইআর ইস্যুতে রীতিমতো ময়দানে নেমে একাই খেলা ঘুরিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেটাও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে।
দলের নেত্রীর এই দাপুটে ভূমিকা দেখে তৃণমূলের প্রথম সারির একাধিক নেতৃত্ব মনে করছেন, ভোটের আগে গোটা সংগঠনকে চাঙ্গা করে দিয়েছে এই পদক্ষেপ। দেশের শীর্ষ আদালতে জোর গলায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতার সওয়াল যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে তাঁর সেই রাস্তার রাজনীতিকে। ঠিক যেভাবে তাঁর উত্থান।
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে, ব্র্যান্ডিং খুব চলতি একটা শব্দ। বুধবার, সেই কাজটাই অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে করেছেন তিনি। কীভাবে? বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইতে তিনিই যে একমাত্র মুখ, সেটি প্রমাণ করে ছাড়লেন। কারণ, গোটা দেশে মমতার এই পদক্ষেপ এবং সওয়াল জবাবের মুহূর্ত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, সোশ্যাল মিডিয়াতেও রীতিমতো ভাইরাল। অর্থাৎ, ঠিক যে কাজটা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করতে চেয়েছিলেন, সেটি সফলভাবে কর দেখালেন।
বুঝিয়ে দিলেন, বিজেপি বিরোধী লড়াইতে তিনি এক্স-ফ্যাক্টর। তাছাড়া একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মানুষের জন্য লড়াই করছেন, এই উদাহরণটি সেট করে দিলেন গোটা দেশের সামনে।
অনেকে মনে করছেন, এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বিরোধী বাড়তি ভোটও মমতা তৃণমূলের দিকে টেনে আনতে পারবেন। যার ফলে, বিপাকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলগুলির। সবথেকে বড় বিষয়, বামেদের মধ্যেও এসআইআর নিয়ে বিরোধিতা আছে। তাই বামেদের যে ভোট ব্যাঙ্ক আছে, সেই মানুষরাও তো দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে গিয়ে লড়ছেন। গোলে, সেই ভোট ব্যাঙ্কেও দোদুল্যমানতা তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে।
অন্যদিকে, সিপিএম যে লিবারেশনকে নিজেদের মিছিলে নিয়ে হাঁটছে বা নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতার পরিকল্পনায় রয়েছে, সেই দলের নেতা তথা সিপিআইএমএল (লিবারেশন)-এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এটাকে নাটক বলতে যাব কেন? অনেকে অনেক কিছুকেই নাটক বলেন। ওরা মনে হয় সবসময় নাটক দেখেন!’’ এখানে ওরা বলতে উনি সিপিএম-কে বোঝাতে চেয়েছেন। কারণ, বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী মমতার এই পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্তব্য করেন, "এসব নাটক!’’
ফলে, বোঝাই যাচ্ছে যে, মমতার একটি পদক্ষেপ চারিদিকে রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। তাহলে কি মমতার সওয়াল বাম ঐক্যে চিড় ধরিয়ে দিল? অন্যদিকে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কিছু এলাকায় তৃণমূলবিরোধী যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, বুধবারের এই সওয়াল সেই পরিস্থিতিতে বদল আনতে বাধ্য। বিজেপি বিরোধিতার প্রসঙ্গে, তৃণমূলের জনসমর্থন বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে। সবথেকে বড় বিষয়, মমতার সওয়ালের পরেই নির্বাচন কমিশনকে একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যা রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বাসযোগ্যতাকে অনেক্তাইবারিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
আগামী সোমবার, ফের এসআইআর মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তবে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, মমতা আসল কাজটি সেরে ফেলেছেন। ঠিক যেমনটা চেয়েছিলেন। তাহলে কি স্লগ ওভারে খেলা ঘোরালেন মমতা? উত্তর দেবে সময়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।