Medecine Shop Strike: মে মাসের এই দিন সারা দেশে বন্ধ থাকবে ওষুধের দোকান, চরম ভোগান্তির আশঙ্কা

Published : May 02, 2026, 12:04 PM IST
All India Organization of Chemists and Druggists called for nationwide strike on May 20

সংক্ষিপ্ত

অনলাইনে ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে ২০ মে ধর্মঘটের ডাক ডিল 'অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস' (AIOCD)। তাদের বক্তব্য ই-ফার্মেসিগুলোর দ্রুত এবং মূলত নিয়ন্ত্রণহীন বিস্তার, তার উপর বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলোর দেওয়া বিপুল ছাড় বা 'ডিপ ডিসকাউন্টিং' সারা দেশের ওষুধের দোকানগুলির জন্য এক গুরুতর হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনলাইনে ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে ২০ মে ধর্মঘটের ডাক ডিল 'অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস' (AIOCD)। তাদের বক্তব্য ই-ফার্মেসিগুলোর দ্রুত এবং মূলত নিয়ন্ত্রণহীন বিস্তার, তার উপর বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলোর দেওয়া বিপুল ছাড় বা 'ডিপ ডিসকাউন্টিং' সারা দেশের ওষুধের দোকানগুলির জন্য এক গুরুতর হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পাঠানো একাধিক স্মারকলিপিতে সংগঠনটি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা এমন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে, যা তথাকথিত 'শিকারি মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি' (predatory pricing practices) নিয়ন্ত্রণ করতে পারে অথবা বিকল্প হিসেবে তারা সেইসব নিয়ন্ত্রণমূলক বিধান প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে, যা তাদের মতে প্রথাগত পাড়া-মহল্লার ওষুধের দোকানগুলোর চেয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে বেশি সুবিধা দেয়।

ক্রমবর্ধমান প্রতিবাদের অংশ হিসেবে, AIOCD একটি ধাপে ধাপে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির চূড়ান্ত পর্যায়ে ২০ মে দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টার 'সর্বভারতীয় কেমিস্ট ধর্মঘট' (All India Chemists Bandh) পালিত হবে। ওই দিন সারা দেশের ওষুধের দোকানগুলো মধ্যরাত থেকে পরবর্তী মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ১৩ মে রাজ্য-স্তরের সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে শুরু হবে। এরপর ১৫ মে থেকে শুরু হবে সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ প্রদর্শন, যে সময়ে ওষুধের দোকানদাররা কালো ব্যাজ করে প্রতিবাদ জানাবেন।

সংগঠনটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটসহ আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং কর্পোরেট ফার্মেসি চেইনগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া বিপুল ছাড়ের বিষয়টি। AIOCD-এর মতে, গ্রাহকদের ২০% থেকে ৬০% পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে—যা তাদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিবিধানের আওতায় কোনওভাবেই লাভজনক বা টেকসই নয়।

'ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি' (NPPA)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী খুচরো বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রায় ১৬% মুনাফার (retail margin) অনুমতি রয়েছে। সংগঠনটি যুক্তি দিয়েছে যে, মূল্য নির্ধারণের এই মডেলগুলো মূলত বিপুল পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমেই টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। যার মূল লক্ষ্য হল বাজারের দখল নেওয়া এবং একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। সংগঠনটি বলেছে, “এই ধরনের কার্যকলাপ বাজারের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতিকে বিকৃত করছে এবং ছোট খুচরো বিক্রেতাদের ব্যবসা থেকে ছিটকে দিচ্ছে।” তারা আরও জানিয়েছে যে, হাজার হাজার স্বাধীন ওষুধের দোকান এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থনৈতিক উদ্বেগের পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণমূলক তদারকির অভাবে রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়েও সংগঠনটি গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

AIOCD ই-ফার্মেসি মডেলে ফার্মাসিস্ট এবং রোগীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের অভাবের বিষয়টি তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এই অভাবের ফলে রোগীরা নিজেদের ইচ্ছামতো ওষুধ খাচ্ছেন (self-medication)। এতে স্ক্যান করা প্রেসক্রিপশন বারবার ব্যবহার করে নেশার ওষুধ কেনার সম্ভাবনার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। AIOCD-এর সভাপতি জে. এস. শিন্ডে বলেন, “যদি এই ধরনের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলতে থাকে, তবে ওষুধের অযৌক্তিক ব্যবহার এবং নির্ভরতা বৃদ্ধির প্রকৃত ঝুঁকি রয়েছে।” সংস্থাটি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, সরবরাহ ব্যবস্থায় নিম্নমানের বা নকল ওষুধ ঢুকে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি পরিবহনের সময় ওষুধের কার্যকারিতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও লজিস্টিক বা ব্যবস্থাপনাগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে—বিশেষ করে যেখানে নির্ভরযোগ্য ‘কোল্ড-চেইন’ (শীতল সংরক্ষণ) ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। AIOCD কোভিড-১৯ মহামারীর সময় জারি করা নির্দিষ্ট কিছু বিজ্ঞপ্তির বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, এই বিজ্ঞপ্তিগুলোর মূল উদ্দেশ্যকে উপেক্ষা করে সেগুলোকে অপব্যবহার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ওষুধের অনলাইন বিক্রয়কে—যা আসলে ওই বিজ্ঞপ্তিগুলোর আওতাভুক্ত নয়—বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। AIOCD-এর সাধারণ সম্পাদক রাজীব সিংঘল এই পরিস্থিতিকে ‘নিয়ন্ত্রণমূলক অসামঞ্জস্য’-এর একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এটা বোঝা কঠিন যে, জরুরি ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধানগুলোকে এমনভাবে কেন সম্প্রসারিত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য এবং নিবন্ধিত ফার্মাসিস্টদের স্বার্থ—উভয়কেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।”

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মীদের নিয়োগ, কমিশনের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট
Summer Vacation: ৪ মে থেকে স্কুলগুলোতে শুরু হচ্ছে গরমের ছুটি, বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করল শিক্ষা দফতর