- Home
- India News
- TMC Crisis: তৃণমূলে ভাঙন! ‘অপরিচিত’ NCPI-তেই কেন যোগ দিলেন লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদরা? সামনে এল ১০ কারণ
TMC Crisis: তৃণমূলে ভাঙন! ‘অপরিচিত’ NCPI-তেই কেন যোগ দিলেন লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদরা? সামনে এল ১০ কারণ
তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের সাংসদদের NCPI-তে যোগদান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দলবদলের পেছনে সাংগঠনিক অসন্তোষ, নেতৃত্ব নিয়ে মতভেদ-সহ একাধিক কারণ সামনে আসছে। কেন বিদ্রোহী সাংসদরা এই পথ বেছে নিলেন, তার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেখুন।

বিক্ষুদ্ধ তৃণমূল সাংসদদের NCPIতে যোগদানের কারণ
কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ সহ তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী লোকসভা সাংসদ দল ছেড়ে যোগ দিলেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে। কিন্তু কেন? তাই নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

NCPI সম্পর্কে দু-চার কথা
এনসিপিআই কার্যত একটি 'অপরিচিত ও অস্তিত্বহীন' দল — ২০২৩ সালে ত্রিপুরার দু'টি আসনে লড়ে মাত্র ৮০০ ভোট পেয়েছিল। তারপরই এই দল অস্তিত্ত্বহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু সেই দলেই ভিড়ে গেলেন তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ।
বিধায়কদের পথে হাঁটালেন না সাংসদরা
বিধানসভার বিদ্রোহীরা (ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা) 'আসল তৃণমূল' দাবি করে বিরোধী বেঞ্চে বসেছেন — লোকসভার বিদ্রোহীরা সেই ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটলেন না। রাজনৈতিক মহলের ধারনা , বিধায়কদের মত ঝুঁকিপূর্ণ পথে না হেঁটে দল বদল করতে চেয়েছেন তৃণমূলের সাংসদরা। আর সেই কারণেই অনামি দলে যোগ দিলেন তাঁরা।
বিধায়কদের ঝুঁকির কারণ
বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে হাই কোর্টে মামলা ঝুলছে। কোর্ট কি রায় দেবে তার ওপর নির্ভর করছে বিধায়কদের ভাগ্য। সেই আইনি জটিলতা থেকে শিক্ষা নিয়েই লোকসভার বিদ্রোহীরা আলাদা কৌশল নিলেন।
বিধায়কদের থেকে সাংসদদের মৌলিক ফারাক
লোকসভার বিদ্রোহীরা এনডিএ-কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন । দল না ভেঙেই তারা সরাসরি বিধানসভার বিদ্রোহীদের সঙ্গে অবস্থানগত মৌলিক ফারাক এখানেই। ওয়াকিবহাল মহলের ধারনা সাংসদরা কোনও ঝামেলায় না পড়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের থেকে দূরত্ব তৈরি করতে চেয়েছিলেন।
বিদ্রোহী তৃণমূল-বিজেপি যোগ
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদদের এই হঠাৎ বিদ্রোহের পরিচালনা যে বিজেপি করছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিদ্রোহী সাংসদ আর বিজেপির আঁতাত এখন স্পষ্ট। বিদ্রোহী সাংসদদের সব বৈঠকই হয়েছে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাংলোতে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও।
বিজেপির উদ্দেশ্য
বিজেপি এদের দলে নিতে নয়, কাজে লাগাতে আগ্রহী — সংসদে বিভিন্ন বিলে ভোট পাওয়াই মূল উদ্দেশ্য বলে মত আইনজ্ঞদের। লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও একই পলিসি নিতে পারে বিজেপি। যদিও ইতিমধ্যেই কয়েকজন তৃণমূল সাংসদ ইস্তফা দিয়েছে। সেগুলিতে বিজেপি তাদের নিজেদের লোককেই রাজ্যসভায় পাঠাতে পারে।
তৃণমূলের নাম-প্রতীক কার?
তৃণমূলের দলের নাম, প্রতীক ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ থাকছে মমতার ঘনিষ্ঠ সাংগঠনিক নেতাদের হাতেই — বিদ্রোহীদের পক্ষে তা পাওয়া কার্যত অসম্ভব। আর সেই কারণে বিদ্রোহী সাংসদরা মমতা-অভিষেকের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন বলেও মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
মমতা কংগ্রেসে মেশার আশঙ্কা
মমতা যদি কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন। এখনও সেই আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারছেন না তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। যদি তাই হয় তাহলে তারা দলত্যাগবিরোধী আইনের ফাঁদে পড়তেন বিদ্রোহীরা — সেই আশঙ্কা এড়াতেও আগেভাগে নতুন দলে যোগ দেওয়ার কৌশল।
২/৩ -এর সমর্থন বিদ্রোহীদের হাতে
বর্তমানে তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন বিদ্রোহীদের হাতে রয়েছে — স্পিকারকে আগেই চিঠি দিয়ে দলত্যাগবিরোধী আইনের ফাঁদ এড়ানো হয়েছে।
তৃণমূলের গঠনতন্ত্র
তৃণমূল গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটি সম্পূর্ণ চেয়ারপার্সন-কেন্দ্রিক, অর্থাৎ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের চেয়ে সাংগঠনিক পদাধিকারীদের ক্ষমতা অনেক বেশি।
এক সপ্তাহেই নতুন দল!
লোকসভায় তৃণমূল ভাঙনের এই নাটকীয় অধ্যায় শুরু হয়েছিল সোমবার — আর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই বিদ্রোহীরা চলে গেলেন এমন একটি দলে, যার নাম রবিবার বিকেলের আগে কেউ জানতেন না।

