
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। দুই নেতার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়। তাঁরা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন যে, এই অঞ্চলে এবং তার বাইরেও শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দিল্লি ও প্যারিস একযোগে কাজ করে যাবে।
পরে এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, "আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ফোন পেলাম। আমরা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা দ্রুত ফেরানোর বিষয়ে একমত হয়েছি। এই অঞ্চলে এবং তার বাইরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে আমরা আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চালিয়ে যাব।"
পশ্চিম এশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখছে। এর আগে মার্চ মাসেও ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছিলেন মোদী। তখনও তিনি বলেছিলেন যে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে দুই দেশ একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। দুই নেতাই পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং হরমুজ প্রণালীকে খোলা ও সুরক্ষিত রাখার ওপর জোর দেন।
এদিকে, আজ দেশের রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকারের মধ্যেও বৈঠক হয়। তাঁরাও পশ্চিম এশিয়ায় সমুদ্রপথে নিরাপদ ও বাধাহীন যাতায়াতের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, "দুই পক্ষই পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে। তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনা ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছেন। এর মধ্যে সমুদ্রপথে নিরাপদ ও বাধাহীন জাহাজ চলাচলও রয়েছে।"
ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই ফোন এমন এক সময়ে এল, যখন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে একটি সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে। হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ৪০টিরও বেশি দেশকে নিয়ে এই সম্মেলন হবে।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, এই সপ্তাহের শেষে শুক্রবার প্যারিসে ভিডিও কনফারেন্সটি হবে। এর লক্ষ্য হল শান্তিপূর্ণ দেশগুলিকে একত্রিত করে একটি 'বহুপাক্ষিক ও প্রতিরক্ষামূলক মিশন' তৈরি করা, যা বিশ্বের এই গুরুত্বপূর্ণ শক্তি সরবরাহকারী জলপথে নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করবে।