
নয়া দিল্লি (২৫ মার্চ): পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মেঘ আরও ঘন হচ্ছে। ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে। ড্রোন ও মিসাইল হামলা বেড়েই চলেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকটের আঁচ যে ভারতেও এসে লাগবে, সে কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগেই লোকসভা ও রাজ্যসভায় জানিয়েছিলেন।
তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতি কোভিডের চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটেই প্রধানমন্ত্রী আজ এক জরুরি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। বিকেল ৫টায় জরুরি বৈঠক সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের এই জরুরি বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশকে একজোট হয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। বিরোধী দলগুলোও কিছু পরামর্শ দিয়েছিল।
আজকের বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভারতের সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। বিকেল ৫টায় এই বৈঠক শুরু হবে। বৈঠকের পর সব দলের নেতাদের পরামর্শ ও সমালোচনার ভিত্তিতে কেন্দ্র কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ইতিমধ্যেই ভারতে গ্যাসের অভাব দেখা দিয়েছে। অনেক হোটেল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বহু বাড়িতে রান্নার গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। হোটেল মালিকদের সংগঠনও ক্রমাগত সরকারকে চিঠি দিচ্ছে। তাই সমস্যা আরও জটিল হওয়ার আগেই সরকার কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, সংসদে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, সরকার পশ্চিম এশিয়ার এই সংকটকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না, যার ফলে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। তাই আজকের এই সর্বদলীয় বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিকেল ৫টার বৈঠকে কেন্দ্র নিজের পরিকল্পনার কথা বাকি দলগুলোর সামনে তুলে ধরতে পারে।