
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত থামাতে আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার তিনি এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেন, ওই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরা দরকার। একইসঙ্গে সমুদ্রপথে অবাধ যাতায়াতের বিষয়টিও নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে এবং অনেক দেশে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদী জানান, নয়াদিল্লি বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে, যাতে একটি স্থায়ী চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, "পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শেষ করতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে বোঝাপড়া হয়েছে, তাকে আমি স্বাগত জানাই। এই সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে এবং অনেক দেশে মানুষের প্রাণ গেছে।"
I welcome the understanding reached between the United States and Iran on ending the conflict in West Asia, which has caused serious economic disruption across the world and led to loss of life in many countries.
India hopes that the implementation of this understanding will…— Narendra Modi (@narendramodi) June 15, 2026
"ভারত আশা করে, এই বোঝাপড়া বাস্তবায়িত হলে ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও যাতায়াতের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। আমরা বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার অপেক্ষায় আছি, যাতে একটি স্থায়ী চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব হয়," ।
রবিবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক চুক্তির কথা ঘোষণা করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তির ফলে পশ্চিম এশিয়ায় "শান্তি ও নিরাপত্তা" ফিরে আসবে এবং জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে রবিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, "ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন। বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু করুন। তেল বইতে দিন!"
এই ঘোষণার পরেই ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-বিদেশমন্ত্রী শান্তি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আলোচনার পরবর্তী ধাপের জন্য তেহরানের শর্তগুলোও তিনি স্পষ্ট করে দেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, বিদেশমন্ত্রী বলেছেন যে শুক্রবার এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। এরপরই মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU)-এর সম্পূর্ণ বয়ান প্রকাশ করা হবে। তিনি জানান, আমেরিকা শত্রুতা বন্ধ করা, অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে কি না, তা যাচাই করার পরেই ইরান প্রস্তাবিত ৬০ দিনের চূড়ান্ত আলোচনার পর্বে প্রবেশ করবে।
এই শান্তি চুক্তি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। এর আগে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেন এবং আন্তোনিও কোস্তাও এই শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা সব পক্ষকে দ্রুত ও পুরোপুরি চুক্তি বাস্তবায়নের আর্জি জানান। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সমুদ্রপথে অবাধ যাতায়াত পুনরুদ্ধার করা জরুরি বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।
বিশ্বের অন্য নেতারাও আমেরিকা ও ইরানের এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরানো, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ যাতায়াত চালু করা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতির উপর চাপ কমানোর জন্য এটি একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ। এই চুক্তির ফলে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে উদ্বেগ মেটানোর রাস্তাও খুলতে পারে।