
জুলাই মাসে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বেশ খানিকটা সক্রিয় হয়েছে। এর ফলে আগামী সপ্তাহগুলিতে খরিফ শস্য বোনার কাজ গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দেশের সব অঞ্চলে সমানভাবে বৃষ্টি না হওয়ায় বেশ কিছু প্রধান কৃষি অঞ্চলে ফসলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। ICICI ব্যাঙ্কের একটি রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, "জুলাই মাসে বর্ষার গতি বেড়েছে। ১ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতি ছিল মাত্র ৭ শতাংশ, যেখানে জুনে এই ঘাটতি ছিল ৪০ শতাংশ। আবহাওয়া দপ্তর (IMD) আগামী দিনে আরও বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।"
এর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে চাষের জন্য আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুকূল হচ্ছে, বিশেষ করে পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। তবে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির পরিমাণে ফারাক থাকায় সার্বিক চিত্রটা এখনও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে বৃষ্টির ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের কিছু অংশেও স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খরিফ শস্য বোনার উপর, যা গত বছরের তুলনায় এখনও পিছিয়ে আছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, "১৭ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত খরিফ শস্য বোনা গত বছরের চেয়ে ৬% কম হয়েছে। মূলত ডাল এবং মোটা দানার শস্যের চাষই বেশি পিছিয়ে। তবে বর্ষার অগ্রগতির সাথে সাথে আগামী সপ্তাহগুলিতে চাষের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।"
জলের জোগান বা ওয়াটার স্টোরেজের দিকেও নজর রাখা জরুরি। যদিও দেশের জলাধারগুলিতে জলস্তর গত বছরের এবং দীর্ঘমেয়াদী গড়ের থেকে কম, তবে পশ্চিম ও উত্তর ভারতের জলাধারগুলিতে তুলনামূলকভাবে বেশি জল থাকায় কম বৃষ্টির প্রভাব কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, "সারা দেশের জলাধারগুলিতে মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৩৪% জল রয়েছে, যা গত বছরের স্তর এবং দীর্ঘমেয়াদী গড়, দুটোর থেকেই কম। তবে পশ্চিম ও উত্তর ভারতে বেশি জল সঞ্চিত থাকায় তা পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করবে।"
আগামী দিনে বর্ষা কেমন আচরণ করে, তার উপরেই খরিফ চাষের এলাকা এবং ফসলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। বৃষ্টি বাড়লে চাষের গতি বাড়বে ঠিকই, কিন্তু শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি এখনও কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি হয়ে থাকছে।