ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে ফেসিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত প্রায় ২৮০০ অভিযুক্ত অপরাধীর বিরুদ্ধে নতুন করে FIR দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি আগাী ৫ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস মঙ্গলবার জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে ফেসিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২,৮০০ দাগী অপরাধীকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এবার তাদের বিরুদ্ধে দিল্লিতে নতুন করে FIR দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন আগাী ৫ সেপ্টেম্বর সিজেপি যন্তরমন্তরে নতুন যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিক্ষোভস্থলে অপরাধীরা কেন?
বিক্ষোভস্থলে এত সংখ্যক অপরাধীর উপস্থিতি নিয়ে দিল্লি পুলিশ উদ্বেগ প্রকাশ করার পরেই সরকারের সঙ্গে আলোচনায় এই বিষয়টি ওঠে বলে জানান সৌরভ দাস। এখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "ফেসিয়াল রেকগনিশন টেকনোলজির ওপর ভিত্তি করে দিল্লি পুলিশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, বিক্ষোভস্থলে প্রায় ২,৮০০ দাগী অপরাধী উপস্থিত ছিল। সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় আমরা যুক্তি দিয়েছিলাম, যদি সত্যিই ২,৮০০ দাগী অপরাধী সেখানে থেকে থাকে, তাহলে প্রথম প্রশ্ন হল, তারা সমাজে এতদিন ধরে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল কী করে?"
সৌরভ আরও বলেন, "দ্বিতীয়ত, যদি তারা বিক্ষোভস্থলে ধর্ষণ, খুন বা অন্য কোনও গুরুতর অপরাধ করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত এবং তাদের জেলে পাঠানো উচিত।"
সৌরভ দাস জানান, সুপ্রিম কোর্ট এখন এই চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য দিল্লিতে একটি পৃথক FIR দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেন, "এর ফলে, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে চিহ্নিত ২,৮০০ দাগী অপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য দিল্লিতে একটি আলাদা, নতুন FIR দায়ের করা হবে। এই সমস্যার এখন সমাধান হয়েছে।"
ক্ষতিপুরণ ইস্যুতে সিজেপি
ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সৌরভ দাস বলেন, CJP সরকারের কাছে আবেদন করেছিল যাতে সুপ্রিম কোর্টের সামনে ৯০ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তিনি বলেন, "আমরা সরকারকে অনুরোধ করেছিলাম সুপ্রিম কোর্টের সামনে বলার জন্য যে, একটি সম্মানজনক অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ৯০ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে। টাকা সরাসরি পরিবারগুলোর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। সরকার আজ সুপ্রিম কোর্টকে এই আশ্বাস দিয়েছে এবং আদালত তা গ্রহণ করে তার নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত করেছে।"
FIR প্রত্যাহারের পরে আন্দোলন প্রত্যাহার
উল্লেখ্য, NEET 2026 পরীক্ষা নিয়ে ২০ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী বিক্ষোভের জেরে দায়ের হওয়া FIR গুলি মঙ্গলবার সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) তোলা দাবিগুলির বিষয়ে কেন্দ্র আশ্বাস দেওয়ার পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কেন্দ্রের আশ্বাস এবং আদালতের নির্দেশের পর, CJP তাদের ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচী বাতিল করে দেয়।
হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের অংশগ্রহণে হওয়া এই বিক্ষোভের জেরে দায়ের হওয়া FIR গুলি নিয়ে দিল্লি পুলিশ এবং মহারাষ্ট্র, আসাম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের করা আবেদনের শুনানি করছিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে, দিল্লি পুলিশ জাতীয় ডেটাবেস অনুযায়ী অপরাধমূলক রেকর্ডের কথা উল্লেখ করে দিল্লির ২,৮৭৩ জন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ছাড় চেয়েছিল। পুলিশের তরফে জানানো হয়, এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মারধর এবং সম্পত্তি নষ্টের মতো অভিযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে আইন অনুযায়ী ওই ২,৮৭৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে FIR দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে।


