Hydrogen Train: দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের চাকা গডাল, বিদ্যুৎ ছাড়া কীভাবে ছোটে? সায়েন্সটা বুঝুন

Published : Jul 17, 2026, 12:02 PM ISTUpdated : Jul 17, 2026, 12:03 PM IST
Narendra Modi flagged off India first hydrogen train between Jind and Sonipat How does hydrogen train work

সংক্ষিপ্ত

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল-চালিত ট্রেনের (Hydrogen Train) যাত্রার সূচনা করেছেন। যার কারণে ভারত পরিচ্ছন্ন রেল পরিবহনের এক নতুন যুগে প্রবেশ করল। এর ফলে হাইড্রোজনে রেল চালানো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় যুক্ত হল ভারত।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল-চালিত ট্রেনের (Hydrogen Train) যাত্রার সূচনা করেছেন। যার কারণে ভারত পরিচ্ছন্ন রেল পরিবহনের এক নতুন যুগে প্রবেশ করল। এর ফলে হাইড্রোজনে রেল চালানো হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় যুক্ত হল ভারত। নর্দান রেলের জিন্দ-সোনিপত রুটে চলাচলকারী এই ট্রেনটি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প (পাইলট প্রজেক্ট)। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্কে হাইড্রোজেন-চালিত পরিবহনের কার্যকারিতা যাচাই করাই এর লক্ষ্য। এই উদ্বোধনের মাধ্যমে জার্মানি, জাপান, চিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর তালিকায় শামিল হল ভারত, যারা হাইড্রোজেন-চালিত রেল পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে।

হাইড্রোজেন ট্রেন কীভাবে কাজ করে? (How does hydrogen train work)

প্রচলিত ডিজেল লোকোমোটিভের বিপরীতে, হাইড্রোজেন ট্রেনটি হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ব্যবহার করে নিজস্ব বিদ্যুৎ নিজেই উৎপাদন করে। এই ব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১,২০০-কিলোওয়াট ক্ষমতার 'প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন ফুয়েল সেল' (PEMFC), যা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। এর একমাত্র উপজাত (by-product) হল জলীয় বাষ্প ও তাপ। ফলে এটি বর্তমানে চালু থাকা ব্যবস্থার অন্যতম পরিচ্ছন্ন পদ্ধতি।

ট্রেনটির দুটি 'হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার'-এর ভেতরে উচ্চ-চাপের সিলিন্ডারে সংকুচিত হাইড্রোজেন গ্যাস বহন করা হয়। এই হাইড্রোজেন 'প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন ফুয়েল সেল'-এ (PEMFC) সরবরাহ করা হয়। এটি অনেকটা এমন এক ব্যাটারির মতো কাজ করে, যাতে হাইড্রোজেন সরবরাহ অব্যাহত থাকলে পুনরায় চার্জ করার প্রয়োজন পড়ে না। ফুয়েল সেলের ভেতরে সাধারণত প্ল্যাটিনাম দিয়ে তৈরি অনুঘটক (catalyst) ব্যবহার করে হাইড্রোজেন অণুগুলোকে প্রোটন ও ইলেকট্রনে বিভক্ত করা হয়। প্রোটনগুলো একটি বিশেষ পলিমার মেমব্রেনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, আর ইলেকট্রনগুলোকে একটি বাহ্যিক বৈদ্যুতিক সার্কিটের মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়।

 

 

ইলেকট্রনের এই প্রবাহ বিদ্যুৎ তৈরি করে, যা ট্রেনের ট্র্যাকশন মোটরগুলোকে সচল রাখে। একই সময়ে, পারিপার্শ্বিক বাতাস থেকে অক্সিজেন ফুয়েল সেলে প্রবেশ করে এবং হাইড্রোজেনের প্রোটন ও ইলেকট্রনের সঙ্গে মিলিত হয়। এই তড়িৎ-রাসায়নিক বিক্রিয়ার একমাত্র উপজাত হল জলীয় বাষ্প ও তাপ। ব্যবহারের সময় এতে কোনও দহন বা ধোঁয়া তৈরি হয় না এবং কার্যত কোনও কার্বন নিঃসরণও ঘটে না।

ফুয়েল সেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ 'লিথিয়াম আয়রন ফসফেট' (LFP) ব্যাটারিতেও জমা রাখা হয়। এই ব্যাটারি ট্রেনের গতি বাড়ানোর সময় (অ্যাক্সিলারেশন) অতিরিক্ত শক্তি সরবরাহ করে এবং 'রিজেনারেটিভ ব্রেকিং'-এর মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা শক্তি সঞ্চয় করে রাখে। এই হাইব্রিড ব্যবস্থা কর্মদক্ষতা বাড়ায় এবং হাইড্রোজেনের ব্যবহার কমিয়ে আনে।

রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কমে

প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় হাইড্রোজেন ব্যবহারের উল্লেখযোগ্য সুবিধা রয়েছে। প্রতি কিলোগ্রামে প্রায় ১২০ মেগাজুল শক্তি ঘনত্বের (তুলনামূলকভাবে ডিজেলের ক্ষেত্রে যা ৪৩ মেগাজুল/কেজি) কারণে হাইড্রোজেন ব্যবহারের সময় কোনও কার্বন নিঃসরণ না ঘটিয়েই উচ্চ কার্যক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তির ফলে রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কমে এবং পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

এই ট্রেন পরিষেবার সহায়তার জন্য হরিয়ানার জিন্দে ভারতের বৃহত্তম রেলওয়ে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং (জ্বালানি ভরার) কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই কেন্দ্রটিতে প্রায় ৩,০০০ কিলোগ্রাম হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং এটি 'পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন' (PESO)-এর অনুমোদন পেয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড (যেমন NFPA-2 এবং ISO 19880) মেনে এই রিফুয়েলিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে এবং জার্মানির 'TUV SUD' দ্বারা এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে।

'রিসার্চ, ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন' (RDSO)-এর কারিগরি তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণভাবে ভারতে তৈরি এই প্রকল্পটি সরকারের 'আত্মনির্ভর ভারত' উদ্যোগের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং এটি 'জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন'-কে সহায়তা করে।

ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য (ALL ABOUT INDIA'S FIRST HYDROGEN TRAIN)

১০টি কোচবিশিষ্ট এই ট্রেনটিতে দুটি 'হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার' এবং আটটি 'ট্রেলার কোচ' রয়েছে; এতে প্রায় ২,৬০০ যাত্রী যাতায়াত করতে পারেন। ট্রেনটিকে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চালানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যদিও এর নকশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। ট্রেন এবং এর আনুষঙ্গিক পরিকাঠামোয় হাইড্রোজেন লিক শনাক্তকারী যন্ত্র, অগ্নি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় হাইড্রোজেন শাট-অফ ব্যবস্থা এবং লোকোমোটিভ চালকদের স্বাস্থ্যের রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের সুবিধা রাখা হয়েছে।

রিফুয়েলিং স্টেশনটি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে এবং কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে ট্রেনের সঙ্গে প্রশিক্ষিত কারিগরি কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনের ব্যাপক ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করার ক্ষেত্রে এই পাইলট প্রকল্পটি ভারতীয় রেলকে মূল্যবান পরিচালনগত অভিজ্ঞতা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধুমাত্র একটি নতুন লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন প্রবর্তনের বাইরেও, এই উদ্যোগটি ভবিষ্যতের হাইড্রোজেন-চালিত পরিবহন ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিকে আরও সুদৃঢ় করে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

COVID-19: ফের দেশে করোনা আতঙ্ক! ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত ৪, আক্রান্ত ১২ , সতর্ক করল প্রশাসন
ISRO-র ১০০ বিজ্ঞানীর পদত্যাগ! শুধু মোটা টাকা বেতন নয়, সামনে এল আরও একাধিক কারণ