- Home
- India News
- COVID-19: ফের দেশে করোনা আতঙ্ক! ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত ৪, আক্রান্ত ১২ , সতর্ক করল প্রশাসন
COVID-19: ফের দেশে করোনা আতঙ্ক! ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত ৪, আক্রান্ত ১২ , সতর্ক করল প্রশাসন
অন্ধ্রপ্রদেশে ফের করোনার (COVID-19) আতঙ্ক! ২৬ জুন থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত আক্রান্ত ১২ জন, মৃত্যু ৪ জনের। ভাইরাসের ধরন জানতে ৫টি নমুনা পাঠানো হয়েছে পুনের National Institute of Virology-তে, জানুন বিস্তারিত।

কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ১২
অন্ধ্রপ্রদেশের স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যে আবার করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। ২৬ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যজুড়ে মোট ১২ জনের শরীরে কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে। ভাইরাসটি ঠিক কোন ধরনের, তা জানতে পাঁচটি নমুনা পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (NIV)-তে পাঠানো হয়েছে।

দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা!
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই কেসগুলি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে। কাডাপা, গুন্টুর, বিশাখাপত্তনম এবং কাকিনাড়া জেলায় আক্রান্তদের পাওয়া গেছে। তবে এক জায়গায় অনেকে একসঙ্গে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।
করোনা আক্রান্ত বিশআখাপত্তনমেও
এরই মধ্যে, বিশাখাপত্তনমের কেজিএইচ হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডক্টর বাণী জানিয়েছেন, শহরে একজন কোভিড পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে। কিছুদিন আগে ওই রোগী সাধারণ চিকিৎসার জন্য এক ডাক্তারের কাছে যান। করোনার উপসর্গ দেখে ডাক্তার তাঁকে একটি বেসরকারি ল্যাবে টেস্ট করাতে বলেন। সেখানে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য কেজিএইচ হাসপাতালেও নমুনা পাঠানো হয়, এবং সেখানেও রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
জুলাইয়ে কোভিড আক্রান্ত ৩৩৯ জন
একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশে মোট ১২টি কোভিড কেস রিপোর্ট করা হয়েছে এবং পাঁচটি নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পুনের এনআইভি-তে পাঠানো হয়েছে। ১ জুলাই থেকে সারা ভারতে মোট ৩৩৯টি কোভিড কেস ধরা পড়েছে।
২০ দিনে করোনায় মৃত ৪
অন্ধ্রপ্রদেশে বিক্ষিপ্তভাবে করোনার কেস পাওয়া যাচ্ছে। ২৬ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে মোট ১২ জন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন। স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কমিশনার বীরা পান্ডিয়ান জানিয়েছেন, মৃত চারজনেরই আগে থেকে গুরুতর শারীরিক সমস্যা ছিল। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ এবং অন্যান্য গুরুতর অসুস্থতা ছিল।
অন্ধ্রপ্রদেশে করোনার প্রকোপ
অন্ধ্রপ্রদেশে এই বছরের প্রথম কোভিড কেসটি ধরা পড়েছিল ২৬ জুন, কাডাপা জেলায়। এরপর ১ জুলাই থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে আরও ১১টি কেস পাওয়া যায়। আক্রান্তদের মধ্যে দুজন আগে থেকেই কোভিড রোগীদের সংস্পর্শে এসেছিলেন।
মোট কেসের মধ্যে কাডাপায় ৮ জন, গুন্টুরে ২ জন এবং বিশাখাপত্তনম ও কাকিনাড়ায় একজন করে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য সচিব স্পষ্ট করেছেন যে, কেসগুলি বিভিন্ন মণ্ডল এবং এলাকা থেকে রিপোর্ট করা হয়েছে, কোনও একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সংক্রমণ ছড়ায়নি।
শুরু হয়েছে নমুনা পরীক্ষা
২৬ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৬৭টি কোভিড টেস্ট করা হয়, যার মধ্যে ১১টি পজিটিভ আসে। এছাড়া, কাকিনাড়া জেলার আরও একজন রোগী তামিলনাড়ুর সিএমসি ভেলোরে টেস্ট করিয়ে পজিটিভ হয়েছেন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১২ হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কোভিড পজিটিভ রোগীদের মধ্যে কাডাপা জেলার তিনজন এবং কাকিনাড়া জেলার একজন মারা গেছেন। স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, মৃত চারজনেরই গুরুতর অসুস্থতা ছিল। ভাইরাসের ধরন জানতে ৯ জুলাই পাঁচটি নমুনা পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (NIV)-তে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিবের পরামর্শ
স্বাস্থ্য সচিব বীরা পান্ডিয়ান সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলতে বলেছেন। তিনি আরও জানান, রাজ্যের সমস্ত ডাক্তার, হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে এবং প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
জেলাওয়াড়ি তথ্যে দেখা যাচ্ছে, কাডাপায় ৮টি, গুন্টুরে ২টি এবং বিশাখাপত্তনম ও কাকিনাড়ায় ১টি করে কেস রয়েছে। এই রোগীদের মধ্যে ৩ জন বর্তমানে হোম আইসোলেশনে আছেন, ২ জন হাসপাতালে ভর্তি এবং ৩ জন ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন। তবে ৪ জনের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা
জাতীয় স্তরের পরিসংখ্যান তুলে ধরে কমিশনার জানান, ১ জুলাই থেকে ভারতে ৩৩৯টি কোভিড কেস রেকর্ড করা হয়েছে। রাজ্যগুলির মধ্যে কেরালায় সবচেয়ে বেশি ১১৫টি কেস, তারপরে কর্নাটকে ৬৪, মহারাষ্ট্রে ৪৩, তামিলনাড়ুতে ৩৯, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং দিল্লিতে ১৮টি করে এবং রাজস্থানে ১২টি কেস পাওয়া গেছে। বাকি কেসগুলি অন্যান্য রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে।

