
দিল্লি: স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এক অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হল ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত চলা 'জরুরি অবস্থা'। ইতিহাসে এই প্রথমবার, সেই জরুরি অবস্থার কথা NCERT-র পাঠ্যবইতে অন্তর্ভুক্ত করা হল। জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইতে এই বদল আনা হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত শুধুমাত্র দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরাই এই বিষয়টি পড়ত। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৫১ বছর পর প্রথমবার হাই স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য এই বিষয়টি আনা হল। 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড পার্ট ১' নামের নতুন বইটির ষষ্ঠ অধ্যায়ে জরুরি অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
বইটিতে এই সময়কালকে ভারতীয় গণতন্ত্রের সামনে আসা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। বাড়তে থাকা বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতির কারণে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।
বইতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'অভ্যন্তরীণ গোলযোগ'-এর কারণ দেখিয়ে ১৯৭৫ সালের জুন মাসে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এই সময়ে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং সংবাদমাধ্যমের উপর কঠোর সেন্সরশিপ চাপানো হয়। বহু রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীকে জেলে পোরা হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি গভীর সংকটের মুখে পড়ে। জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনে জয়প্রকাশ নারায়ণের ভূমিকার কথাও বইটিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অধ্যায়ে জরুরি অবস্থার পাশাপাশি ভুয়ো খবর, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, দারিদ্র্য এবং লিঙ্গবৈষম্যের মতো সমসাময়িক সমস্যাগুলোও আলোচনা করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলগুলিতে এই নতুন বই পাওয়া যাবে। NCERT সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, নতুন এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ফরাসি বিপ্লব, রুশ বিপ্লব এবং নাৎসিবাদের মতো কিছু আন্তর্জাতিক ইতিহাস নবম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যবইতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।