
নেপালের বিধ্বংসী বন্যার প্রভাব এখন ভারতে প্রবাহিত নারায়ণী নদীতে দৃশ্যমান। উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায় নেপাল থেকে প্রবাহিত নারায়ণী নদী থেকে সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি শিশুর মৃতদেহ রয়েছে। বাকি চারটি মৃতদেহের মধ্যে তিনজন মহিলার ও একজন পুরুষের। সবগুলো মৃতদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। নদীতে মৃতদেহগুলো পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন নেপালকে বিষয়টি জানিয়েছে। মৃতদেহগুলোর ছবি ও ভিডিও-সহ প্রাসঙ্গিক শনাক্তকরণ তথ্য নেপালের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন এখন নেপালের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে। বর্তমানে মৃতদেহগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। জানা গেছে, নেপালের বন্যার পর নারায়ণী নদীতে মৃতদেহ পাওয়া শুরু হয়েছে। নদীতে শুধু আবর্জনাই ভেসে যাচ্ছে না, কাঠ, গৃহস্থালীর সরঞ্জাম, সিলিন্ডার, মূল্যবান জিনিসপত্র এবং পশুর মৃতদেহও ভেসে আসছে।
এসএসবি-র ত্রাণ ও উদ্ধারকর্মীরা ক্রমাগত নারায়ণী নদীতে নজর রাখছেন। নদীতে কোনও সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লেই, তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে, কর্মীরা একটি মৃতদেহ দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে নদী থেকে তুলে আনেন। একইভাবে চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল নদীতে একটি সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পায়। কর্মীরা কাছে গেলে মৃতদেহগুলো দেখতে পান। এরপর মৃতদেহগুলো নদীর তীরে নিয়ে আসা হয়। লিখিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর সব মৃতদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কিছু মানুষ নদী থেকে কাঠ ও মূল্যবান জিনিসপত্র উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেদের জীবন বিপন্ন করছেন। নেপালের বন্যায় যেখানে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, সেখানে মানুষ নদীতে ভাসমান জিনিসপত্র উদ্ধারের জন্য প্রবল স্রোতের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলগুলো এই মানুষদের নদী থেকে দূরে থাকার জন্য ক্রমাগত আহ্বান জানাচ্ছে এবং প্রবল স্রোত ও বিপদ থেকে দূরে থাকার জন্য অনুরোধ করছে। তা সত্ত্বেও, মানুষ নদী থেকে সরে যেতে নারাজ। তারা নদীতে ভাসমান কাঠ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র সরাতে ব্যস্ত।
নেপালের হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। ন্যাশনাল ডিসাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের তরফে জানানো হয়েছে, ৩,৭৪২ জনকে শুক্রবার পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানালেন, বিপর্যস্ত নেপালে এখনও ৩২০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। কাঠমান্ডু থেকে শুক্রবার দুপুরে ২১ জন ভারতীয় দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। তাঁরা সকলেই তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। নেপালের পর্যটন মন্ত্রক জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।